লুঙ্গি পরে ভোট দিতে যাওয়ায় এক ভোটারকে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ গাইঘাটায়। বুধবার গোবরডাঙার কুচুলিয়া এলাকায় ১৮৯ নম্বর বুথে এই ঘটনা ঘটে। আব্দুল রউফ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে বাধা দেওয়া নিয়ে বচসা শুরু হয়। আব্দুলকে ঠেলে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফে পাল্টা দাবি, আব্দুলই দুর্ব্যবহার করেন জওয়ানদের সঙ্গে। ধাক্কাধাক্কি করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে নাতির প্যান্ট পরে ভোট দিতে যান তিনি। এই ঘটনার নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, ‘একজন বয়স্ক ভোটার লুঙ্গি পরে গিয়েছেন বলে তাঁকে ঢুকতে বাধা দিয়েছে। এটা হয় নাকি? একজন লুঙ্গি পরুন বা পায়জামা। বার করে দেবে? পরে নাতির প্যান্ট পরে ভোট দিতে গিয়েছেন।’
অভিযোগ, আব্দুল রউফ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি এ দিন লুঙ্গি পরে ভোট দিতে যান। গোবরডাঙার কুচুলিয়া এফপি স্কুলে ভোট তাঁর। সেখানে ঢুকতেই ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁর পোশাক নিয়ে আপত্তি তোলেন বলে অভিযোগ। আব্দুলের দাবি, ‘অল্প বয়সে প্যান্ট পরতাম। তাই নাতির প্যান্ট পরে যাই।’
এক প্রত্যক্ষদর্শী আবুল হাসেম মণ্ডল বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর বক্তব্য, যাঁরা লুঙ্গি পরে ভোট দিতে আসবেন, তাঁদের ভোট দিতে দেওয়া হবে না। আমরা বলিও, আমাদের এখানে তো সিংহভাগ মানুষই লুঙ্গি পরেন। হিন্দু-মুসলিম এ রকম কোনও ব্যাপার নেই। সকলেই পরেন। আর উনি তো বয়স্ক লোক। বৃদ্ধদের এ কথা বললে চলে? আমাদের বলার সুযোগই দিল না। লাঠি উঁচিয়ে ধেয়ে আসছিল। পরে বলেছে, সবটা বিচার করে দেখছে। তবে সকালে দু’একজনকে ভোট দিতেই দেয়নি। বাধ্য হয়ে বাড়িতে গিয়ে পোশাক বদলে আসেন তাঁরা।’ বারাসতের SDO ভুবনপ্রণীত পাপ্পুলা জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।