• কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ, অভিষেক বললেন, ‘বিজেপির ব্যক্তিগত আর্মি...’
    এই সময় | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধাক্কায় বৃদ্ধ ভোটারের মৃত্যুর অভিযোগ উঠল হাওড়ায়। বুধবার উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার কুরিট গ্রামের ২৪৫ নম্বর বুথের ঘটনা। পুলিশ জানায়, মৃতের নাম পূর্ণচন্দ্র দলুই (৮০)। কেন্দ্রীয় জওয়ানদের বিরুদ্ধে উদয়নারায়ণপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে চলেছে মৃতের পরিবার। ঘটনার পরেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ‘বিজেপির ব্যক্তিগত আর্মি’ বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোপ দেগেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনার সঙ্গে শীতলখুচির তুলনা টেনেছেন তিনি। অবশ্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের বিরুদ্ধে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বয়সের কারণে ভালো করে হাঁটতে পারেন না পূর্ণচন্দ্র। ধরে ধরে নিয়ে যেতে হয়। এ দিন সকালে ছেলে তরণী দলুইকে নিয়ে ভোট দিতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্ত অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহনীর জওয়ানরা সাফ জানিয়ে দেন, বুথের ভিতরে পূর্ণচন্দ্র একা যাবেন। তরণী যেতে পারবেন না। এই নিয়ে শুরু হয় বচসা। রীতিমতো কথা কাটাকাটি চলতে থাকে। শেষে কোনও মতে একাই বুথে ঢোকেন পূর্ণচন্দ্র। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন তরণী। ভোট দিয়ে বেরোনোর সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তরণী তখন ফের কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের অনুরোধ করেন, ‘আমাকে ঢুকতে দিন। না হলে বাবা বেরতে পারছেন না।’

    কিন্তু তরণীর কথায় রাজি হননি জওয়ানরা। তাঁরা বুথে ঢুকে পূর্ণচন্দ্রকে তাড়া দিতে থাকেন বলে অভিযোগ। পূর্ণচন্দ্রের জন্য বুথের বাইরে ভিড় জমে যাচ্ছিল। অভিযোগ, শেষে অধৈর্য হয়ে এক জওয়ান পূর্ণচন্দ্রকে ধাক্কা মারেন। টাল সামলাতে পারেননি ৮০ বছরের বৃদ্ধ। মুখ থুবড়ে পড়েন তিনি। তার পরেই জ্ঞান হারান।

    সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান তরণী। পূর্ণচন্দ্রর চোখে-মুখে জল দেন সবাই। কিন্তু আর জ্ঞান ফেরেনি বৃদ্ধের। তখন স্থানীয় বাসিন্দারা পূর্ণচন্দ্রকে আমতা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, পড়ে যাওয়ার পরে হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল, তার ফলেই মৃত্যু হয় পূর্ণচন্দ্রর। ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মৃতের পুত্র তরণী। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘তিন বার ভোট দিতে গিয়েছিলাম। কোনও বারেই আমাকে বুথে ঢুকতে দিচ্ছিল না। শেষে বাবা একাই যায়। কিন্তু এমন পরিণতি হবে ভাবতে পারছি না। ভোট দিতে যাওয়াই যেন কাল হলো।’

    উদয়নারায়ণপুরের ঘটনাকে ২০২১-এর শীতলখুচির সঙ্গে তুলনা করেছেন অভিষেক। X হ্যান্ডলে অভিষেক লিখেছেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অধীনে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী এখন পরিণত হয়েছে বিজেপির ব্যক্তিগত বাহনীতে। বাংলার মানুষের উপরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত গুন্ডাদের দল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী সকাল থেকেই সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। মহিলাদের চড় মারছে, বয়স্কদের মারধর করছে, এমনকি শিশুদেরও আক্রমণ করছে বলে অভিযোগ। এটা ২০২১ সালের শীতলখুচির মানসিকতা। নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের উপরে নির্মম, ঠান্ডা মাথার হিংসা।’

    শীতলখুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক লিখেছেন, ‘একুশে নিরীহ মানুষের রক্তের মূল্য বিজেপিকে চোকাতে হয়েছিল। ছাব্বিশে তার থেকেও বড় মূল্য চোকাতে হবে।’ এখানেই থামেননি তিনি। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ‘জল্লাদ’ বলে তোপ দেগে বলেছেন, ‘আপনারা কোন রাজ্য থেকে এসেছন, কার রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রয়েছন, কিছু যায় আসে না। এই বর্বরতার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে খুঁজে বের করে আইনের সামনে দাঁড় করানো হবে। এঁদের পতনের মধ্যে দিয়েই সন্ত্রাসের রাজত্ব শেষ হবে।’

    তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন। উদয়নারায়ণপুরের জেনারেল অবজ়ার্ভার কানাইয়ালাল স্বামী বলেন, ‘পূর্ণচন্দ্র দলুই বুথের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে তাঁর ছেলেও বুথের মধ্যেই ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আমতা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।’ ঘটনার পরে ২৪৫ নম্বর বুথে গিয়েছিলেন তিনি। কানাইয়ালাল বলেন, ‘তার পরেও ভোট শান্তিপূর্ণই হয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)