বর্ষায় ডুয়ার্সে বনবাসের বন্দোবস্ত, বন্ধ থাকলেও চুটিয়ে উপভোগ করতে পারবেন জঙ্গল
আজ তক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
Dooars Monsoon Tourism Package: শীতের পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় জমানোর রসদ হলো কাঞ্চনজঙ্ঘা। কিন্তু বর্ষায়? ডুয়ার্সের জঙ্গল তো বন্ধ হয়ে যায় তিন মাসের জন্য। বন্যপ্রাণের প্রজনন ঋতু বলে কথা! আগামী ১৬ জুন থেকেই গরুমারা ও জলদাপাড়ার গেটে পড়বে তালা। তবে এবার এই খরাকেই শাপে বর করতে চাইছে ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
নিঝুম অরণ্যে বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ আর চা বাগানের ভেজা গন্ধ, এই নিয়ে ডুয়ার্স এবার সেজে উঠছে নতুন সাজে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা হাজির করেছেন এক চমকপ্রদ প্যাকেজ, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বর্ষার বনবাস’। জঙ্গলপথ বন্ধ থাকলেও পর্যটকদের ঘোরানোর জন্য তৈরি রাখা হয়েছে বিকল্প রুট।
১৫ জুনের পর থেকে যখন সাধারণের জন্য বনপথ নিষিদ্ধ হবে, তখন পর্যটকদের মন ভরাবে জঙ্গল সংলগ্ন পিচ ঢালা রাস্তাগুলো। লাটাগুড়ি থেকে ছাওয়াফুলি কিংবা চাপড়ামারি যাওয়ার পথগুলোতে বৃষ্টির দিনেও মিলতে পারে বন্যপ্রাণের দর্শন। এই সম্ভাবনাকেই হাতিয়ার করছে পর্যটন মহল। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, বৃষ্টির দিনে রিসর্টের বারান্দায় বসে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা আর সামনে মেঘ-রোদের লুকোচুরি। এই নির্জনতা টুকু উপভোগ করতেই অনেক পর্যটক এখন ডুয়ার্সে আসতে চাইছেন। তাঁদের পকেটের কথা মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে এই আকর্ষণীয় সাধ্যের প্যাকেজ। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্রাভেল ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল মনে করেন, ডুয়ার্সে ট্যুরিজম বর্ষার ডুয়ার্স অন্যমাত্রায় ধরা দেয়। জঙ্গল ঘেরা রিসর্টে বসে প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ দেখার মজাই আলাদা। তাছাড়া রাস্তার ধারেই অনেক সময় হাতির পাল বা হরিণের দেখা মেলে, যা পর্যটকদের কাছে বাড়তি পাওনা।
শুধু জঙ্গল নয়, এবারের প্যাকেজে বড় আকর্ষণ চা বাগান। পর্যটকরা সরাসরি চা কারখানায় গিয়ে পাতা তোলা থেকে চা তৈরির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া দেখার সুযোগ পাবেন। এই অভিনব উদ্যোগ পর্যটকদের ডুয়ার্সমুখী করবে বলে আশা করছেন লাটাগুড়ি রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা। ডায়না, মূর্তি বা নেওড়া নদীর উচ্ছ্বাস বর্ষাকালে দেখার মতো হয়। পাহাড়ি খরস্রোতা নদীগুলোর যৌবন আর সবুজে মোড়া দিগন্ত পর্যটকদের প্রকৃতিপ্রেমী করে তোলে। তাই এবার পুজোর আগে পর্যটনে ভাটা পড়ার বদলে জোয়ার আসার আশা দেখছে পর্যটন দফতর ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যটন মেলায় ইতিমধ্যেই ‘বর্ষার বনবাস’ নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি, পর্যটকদের মধ্যে বুকিং নিয়ে বেশ উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডুয়ার্সের এই নতুন ব্র্যান্ডিং পর্যটনের দিশা বদলে দিতে পারে। আসলে এতদিন ধারণা ছিল জঙ্গল বন্ধ মানেই ডুয়ার্স বন্ধ। সেই ধারণা ভেঙে ডুয়ার্সকে বারো মাসের গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বৃষ্টির প্রতীক্ষায় থাকা ডুয়ার্স এবার পর্যটকদের জন্য দরজা খুলে রাখছে এক অন্য অনুভূতির স্বাদ দিতে। সব মিলিয়ে বর্ষার এই ‘বনবাস’ প্যাকেজ পর্যটকদের কাছে ডুয়ার্সকে নতুন করে চিনিয়ে দেবে। বন্যপ্রাণীর প্রজনন ঋতুকে সম্মান জানিয়েও কীভাবে প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে থাকা যায়, তারই এক সার্থক উদাহরণ হতে চলেছে এবারের ডুয়ার্স সফর।