• ভোটের দিন ফলতায় বুথে বুথে ঘুরলেন ‘সিংঘম’ অজয়, অতি সক্রিয়তার অভিযোগ তৃণমূলের
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় বাড়তি সতর্কতা লক্ষ্য করা গেল। বুধবার সকাল থেকেই ফলতা ও ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া টহলদারি ও নজরদারি দেখা যায়। স্পর্শকাতর বুথগুলিতে বিশেষ পর্যবেক্ষণে নামেন উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা, যিনি নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।যদিও একে ‘অতি সক্রিয়তা’ বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল ৷

    সকাল সাড়ে সাতটা থেকেই তিনি ডায়মন্ড হারবারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বুথ পরিদর্শন করেন। শুধু সেখানেই সীমাবদ্ধ না থেকে পাশের কুলপি এলাকার সংবেদনশীল বুথগুলিতেও যান তিনি। বুথগুলির নিরাপত্তা, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন—সবকিছু খতিয়ে দেখেন। তাঁর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের যৌথ টহল এলাকায় নিরাপত্তার বার্তা জোরদার করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

    সকাল পৌনে আটটা নাগাদ তাঁর কনভয় শিরাকোল পেরিয়ে ডায়মন্ড হারবার স্টেশনের কাছে সিআরপিএফের অস্থায়ী ক্যাম্পে পৌঁছয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিআরপিএফের ডিজি জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিংসহ অন্যান্য আধিকারিকরা। প্রায় আধঘণ্টা ধরে দু’জনের মধ্যে আলোচনা চলে, যদিও সেই বৈঠকের বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আসেনি। তবে ভোটের দিনে জ্ঞানেন্দ্র এবং অজয়পালের মধ্যে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে নানা মহলে।

    ডায়মন্ড হারবারে পরিদর্শন শেষে অজয় পাল শর্মার কনভয় রওনা দেয় ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে। সেখানেও কয়েকটি বুথে উত্তেজনার খবর পাওয়ায় তিনি নিজেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান। তাঁর উপস্থিতিতে বিশেষ টহল অভিযান চালানো হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাহিনীকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়।

    এদিন ফলতার ঈশ্বরীপুর এলাকায় টহল চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনী একটি তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ ক্যাম্পে হানা দেয়। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম ভেঙে সেখানে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি কর্মী উপস্থিত ছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী বুথ ক্যাম্পে সীমিত সংখ্যক কর্মী থাকার কথা, যাতে অপ্রয়োজনীয় ভিড় বা উত্তেজনা এড়ানো যায়। এই নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠতেই দ্রুত পদক্ষেপ নেয় বাহিনী।

    কেন্দ্রীয় বাহিনী শুধু সতর্কবার্তায় থেমে না থেকে কঠোর নির্দেশ দেয় নিয়ম মেনে চলার জন্য। তাদের কড়া অবস্থানের ফলে অতিরিক্ত কর্মীরা দ্রুত সরে যান এবং বড় কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। যদিও ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাময়িক উত্তেজনা ছড়ালেও প্রশাসনের তৎপরতায় তা দ্রুত শান্ত হয়।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, নিয়মিত টহল ও কঠোর নজরদারি থাকলে ভোটের দিনে অশান্তির সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায় এবং সাধারণ ভোটাররা নিরাপদ বোধ করেন।

    তবে এই বাড়তি সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মগরাহাট পশ্চিমের প্রার্থী শামিম আহমেদ অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত হস্তক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতেই এই কড়াকড়ি জরুরি।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)