• EVM বাঁচাতে গিয়ে উড়ে গেল ছাতা, দ্বিতীয় দফা মিটতেই ঝেঁপে বৃষ্টি, অস্বস্তিতে ভোট কর্মীরা
    এই সময় | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • একহাতে EVM-টা বুকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। অন্য হাতে ছাতা। প্যান্ট গুটিয়ে সাবধানে পা ফেলে রিসিভিং সেন্টারে ঢুকছেন ভোটকর্মীরা। বুধবার রাতে কালবৈশাখীর মাঝে এই ছবিই ভেসে এল বাংলার অলিগলি থেকে। স্বস্তি আর আশঙ্কার এক অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতি যেন। সকালেই ঝিরঝিরে বৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু রাতে যেন মুষলধারে শুরু হলো। আর তাতে ধুয়ে গেল বাংলার ভোট উত্তাপও।

    ঘড়ির কাঁটায় তখন আটটা। ইভিএম গুছিয়ে সবে বুথ থেকে বেরোচ্ছিলেন ভোটকর্মীরা। তখনই আচমকা শুরু হলো ঝেঁপে বৃষ্টি। এ বার কী হবে? ইভিএম-কে তো আর ভিজতে দেওয়া চলে না। সঙ্গে সঙ্গে চলে আসে প্লাস্টিক। তাতে ইভিএম মুড়ে ব্যাগে ভরে গাড়িতে ওঠেন তাঁরা। তার পর প্যান্ট গুটিয়ে ছাতা মাথায় হাতে প্লাস্টিক মোড়া ইভিএম নিয়ে ঢোকেন রিসিভিং সেন্টারে।

    ইভিএম জমা না দেওয়া পর্যন্ত মুক্তি পান না ভোটকর্মীরা। গত দু’দিনের দায়িত্ব শেষে ঘরে ফেরার জন্য উন্মুখ হয়েছিলেন তাঁরা। ভোটের শেষ লগ্নে বৃষ্টি তাঁদের কিছুটা দেরিও করিয়ে দিলো। অনেকেই গভীর রাত পর্যন্ত আটকে পড়েছিন। বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করেনি নির্বাচন কমিশন। অবশ্য কোনও বারেই করে না। নিজেদের ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হয়। এমনিতেই ভোটের কারণে রাস্তায় যানবাহন কম। তার উপরে বৃষ্টিতে ভোগান্তি চরমে ওঠে।

    অবশ্য ভ্যাপসা গরমের মাঝে অবশ্য স্বস্তি পেল আমজনতা। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ দিন কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুরেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। আবার উত্তর কলকাতার ঠনঠনিয়া, আমহার্স্ট স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিট, আহিরীটোলা, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, দীনেন্দ্র স্ট্রিট–সহ বিভিন্ন জায়গায় জল জমে গিয়েছে। একই ছবি দেখা গিয়েছে পার্ক স্ট্রিট, রবীন্দ্র সদন, কালীঘাট, বালিগঞ্জ সার্কুলার রোড, টালিগঞ্জ, আলিপুর, মোমিনপুর, একবালপুর, বেহালা, পর্ণশ্রী–সহ বিভিন্ন এলাকায়।

    এ বার নির্বাচনের প্রথম দফার আবহাওয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফার কোনও মিলই নেই। ক্ষণে ক্ষণে রং বদলাল। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটে চড়া তাপমাত্রা এবং ভয়াবহ আপেক্ষিক আর্দ্রতার প্রভাবে পাঁচ জেলায় সাত জন ভোটারের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় দফার ভোটের ২ দিন আগেই আবহাওয়া বদলের ইঙ্গিত দিয়েছিল হাওয়া অফিস।

    উত্তরপ্রদেশ থেকে নাগাল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত একটি মৌসুমি অক্ষরেখা এবং গাঙ্গেয় বঙ্গের উপরে তৈরি ঘূর্ণাবর্তের মিলিত প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের বড় অংশে বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টির আসল কারণ। বৃহস্পতিবার কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ–সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

    তথ্য সহায়তা: দেবাশিস দাস এবং তথাগত সেনগুপ্ত

  • Link to this news (এই সময়)