এই সময়: বঙ্গের এ বারের বিধানসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে নামানো হয়েছিল রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী। কমিশনের নির্দেশে এবং প্রশাসনের সঙ্গে বাহিনীর তালমেলে দু’দফার ভোটে একটিও বোমাবাজি বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু দ্বিতীয় দফার ভোটে কাঠগড়ায় সেই বাহিনীরই একাংশ। তাদের অতি সক্রিয়তার জেরে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। আবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের লাঠির ঘায়ে আড়াই বছরের এক শিশুর জখম হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উত্তর ২৪ পরগনায় গোবরডাঙ্গায় লুঙ্গি পরে আসায় কয়েকজনকে ভোট কেন্দ্রে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের। এর পাশাপাশি রাজ্যের বাকি সাত জেলাতেও অনেক জায়গায় বিক্ষিপ্ত ভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল।
বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘অমিত শাহের অধীনে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী আজ বিজেপির ব্যক্তিগত সেনাবাহিনীতে পরিণত হয়েছে— সাধারণ মানুষের উপরে লেলিয়ে দেওয়া লাইসেন্সড গুন্ডাবাহিনী।’ উদয়নারায়ণপুরে বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে তাঁর সংযোজন, ‘ভোরবেলা থেকেই এই কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ নাগরিকদের উপরে সন্ত্রাস চালাচ্ছে— মহিলাদের থাপ্পড় মারা, বয়স্কদের লাঞ্ছিত করা, এমনকী শিশুদের উপরেও হামলা করা হচ্ছে।’
এই প্রসঙ্গে তিনি টেনে আনেন ২০২১–এর বিধানসভা ভোটে কোচবিহারের শীতলখুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃত্যুর ঘটনাও। অভিষেক লেখেন, ‘এটি মূলত ২০২১–এর সেই শীতলখুচির মানসিকতা— নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের উপরে ঠান্ডা মাথার নির্মম হিংসা।’ তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘২০২১–এ নির্দোষ মানুষের রক্তের জন্য বিজেপিকে চড়া দাম দিতে হয়েছিল। ২০২৬–এ তাদের আরও বড় মূল্য চোকাতে হবে। আর বাংলার বুকে ঘুরে বেড়ানো সেই জল্লাদদের বলছি, তোমরা কোন রাজ্য থেকে আসছ, তাতে কিছু যায় আসে না। কার রাজনৈতিক আশ্রয়ে তোমরা আছ, তাতেও কিছু যায় আসে না। এই বর্বরতার সঙ্গে জড়িত তোমাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করা হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে। তোমাদের এই সন্ত্রাসের রাজত্বের শেষ হবে চরম ধ্বংসের মধ্য দিয়ে।’
এ দিনের ভোটে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে অভিযোগ উঠেছে, ৮২ বছরের অশক্ত বৃদ্ধ পূর্ণচন্দ্র দোলুই তাঁর ছেলেকে িনয়ে বুথের মধ্যে ঢুকতে চেয়েছিলেন। তাঁরা আদতে পেঁড়ো থানার কুরিট গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের ভোট ছিল স্থানীয় বলরামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৪৫ নম্বর বুথে। অভিযোগ, ছেলে তরণী দোলুইকে নিয়ে বৃদ্ধ বুথে ঢুকতে চাইলেও অনুমতি দেননি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা, উল্টে তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়। ওই বৃদ্ধ ভোটকেন্দ্রের মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে বাবার দেহের পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতে তরণী বলেন, ‘বুথে অনেক লম্বা লাইন থাকায় বাবার সঙ্গে আমি ভিতরে যাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের কাছে অনুরোধ করেছিলাম। তাঁরা কোনও ভাবেই সেই অনুমতি দেননি। অশক্ত শরীর নিয়ে বাধ্য হয়ে বাবা একাই বুথে ঢোকেন। ভোট দেওয়ার পরে বেরনোর সময়ে বাবা বাবা থরথর করে কাঁপতে শুরু করেন।’
তাঁর সংযোজন, ‘তখনও জওয়ানদের কাছে অনুরোধ করি, বাবার কাছে যেতে দিন। আমাকে যেতে তো দিলেনই না, অসুস্থ বাবার বুথ থেকে বেরোতে দেরি হচ্ছিল বলে এক জওয়ান ওঁকে ধাক্কা মেরে বাইরে ঠেলে দেন। ধাক্কা সামলাতে না পেরে বাবা পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারান। আমতা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা বাবাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।’ কান্না জড়ানো গলায় তরণী বলেন, ‘চোখের সামনে বাবা চলে গেল! জওয়ানরা এর একটু সংবেদনশীল হতে পারলেন না?’
যদিও বাহিনীর অতি সক্রিয়তার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে কমিশন। উদয়নারায়ণপুরের পর্যবেক্ষকের রিপোর্ট দাবি করা হয়েছে, ‘ভোট দেওয়ার পরে অসুস্থতার কারণে তিনি (ওই বৃদ্ধ) হঠাৎ ভোটিং কম্পার্টমেন্টের কাছে পড়ে যান বলে জানা গিয়েছে। সেই সময়ে তাঁর ছেলে বুথের ভেতরেই উপস্থিত ছিলেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য বৃদ্ধকে তড়িঘড়ি আমতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।’ এই ঘটনার পরে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ভাবেই চলেছে বলে দাবি করেন ওই পর্যবেক্ষক।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়ায় আড়াই বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে ভোট দিতে গিয়েছিলেন এক যুবতী। বুথের বাইরে জটলা দেখে আচমকাই বাহিনীর জওয়ানরা লাঠিচার্জ শুরু করেন। তাতেই শিশুটির মুখ রক্তাক্ত হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। কোনও গোলমাল ছাড়াই জওয়ানেরা লাঠিচার্জ করে অভিযোগ তুলে তাঁদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায় জনতা।
ভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশন হাজারো নির্দেশ-বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও ভূ-ভারতে কোথাও ভোট দেওয়ার ড্রেস কোড নিয়ে কোনও নিয়ম-নির্দেশ নেই। কিন্তু সেই ড্রেস কোড নিয়েই তুলকালাম ঘটে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার বেড়গুম–১ পঞ্চায়েতের কুঁচলিয়া এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ কয়েকজন ভোটার লুঙ্গির সঙ্গে টি-শার্ট বা স্যান্ডো গেঞ্জি পরে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। অভিযোগ, পরনে লুঙ্গি থাকায় তাঁদের ভোট দিতে বাধা দেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের একাংশ। তাঁরা ভোটারদের জানিয়ে দেন, লুঙ্গি পরে বুথে ঢোকা যাবে না। ট্রাউজ়ার্স পরে আসতে হবে। লাইনে দাঁড়িয়েই দু’পক্ষের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। কিন্তু জওয়ানরা কোনও মতেই তাঁদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়ায় পিছু হটে, পোশাক পরিবর্তন করে ফের ভোটের লাইনে দাঁড়ান ওই ভোটাররা।
গাইঘাটা থানার ঝাউডাঙ্গার ২১৮ নম্বর বুথে ভোট দিতে আসেন পেশায় সেনা-জওয়ান বিদ্যুৎ দত্ত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। বুথ সংলগ্ন এলাকায় গাড়ি পার্ক করতে গেলে এক জওয়ান বিদ্যুৎকে ধাক্কা মারেন বলে অভিযোগ। তিনি হুমড়ি খেয়ে পড়ে যান। সেই সময়ে আরও কয়েকজন জওয়ান তাঁকে হেনস্থা করেন। স্বামীকে বাঁচাতে এলে তাঁর স্ত্রীকেও হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ।
হুগলির তারকেশ্বরের ভোটার লাইনে লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে বাহিনীর বিরুদ্ধে। ওই বিধানসভায় এক ক্যানসার আক্রান্ত মহিলাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল প্রার্থী রামেন্দু সিংহরায়। অন্যদিকে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের ৯, ১০, ১১ নম্বর বুথে লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। পূর্ব বর্ধমানের রায়না বিধানসভায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাধায় ভোট দিতে পারেননি চেহারা পঞ্চায়েতের প্রধান পুরঞ্জয় সরকার। বর্ধমান পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার শ্যামাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জওয়ানরা মারধর করেন বলে অভিযোগ।
গাইঘাটা থানার ঝাউডাঙ্গার ২১৮ নম্বর বুথে ভোট দিতে আসেন পেশায় সেনা-জওয়ান বিদ্যুৎ দত্ত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। বুথ সংলগ্ন এলাকায় গাড়ি পার্ক করতে গেলে এক জওয়ান বিদ্যুৎকে ধাক্কা মারেন বলে অভিযোগ। তিনি হুমড়ি খেয়ে পড়ে যান। সেই সময়ে আরও কয়েকজন জওয়ান তাঁকে হেনস্থা করেন। স্বামীকে বাঁচাতে এলে তাঁর স্ত্রীকেও হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ।
হুগলির তারকেশ্বরের ভোটার লাইনে লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে বাহিনীর বিরুদ্ধে। ওই বিধানসভায় এক ক্যানসার আক্রান্ত মহিলাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল প্রার্থী রামেন্দু সিংহরায়। অন্যদিকে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের ৯, ১০, ১১ নম্বর বুথে লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। পূর্ব বর্ধমানের রায়না বিধানসভায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাধায় ভোট দিতে পারেননি চেহারা পঞ্চায়েতের প্রধান পুরঞ্জয় সরকার। বর্ধমান পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার শ্যামাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জওয়ানরা মারধর করেন বলে অভিযোগ।