• ধারা ১০৩ হয়েছে ৪০৩! পুলিশের টাইপ করার ভুলেই জামিন সোনমের
    বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • শিলং: হানিমুনে মেঘালয়ে গিয়ে স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন। ২০২৫ সালে সোনম রঘুবংশীর এই কাণ্ডে শিউরে উঠেছিল গোটা দেশ। গত মঙ্গলবার আচমকাই সেই মামলায় জামিন পেয়ে গিয়েছেন মূল অভিযুক্ত সোনম। কীভাবে? এই প্রশ্ন তুলেছে মৃত রাজা রঘুবংশীর পরিবার। আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই সামনে এল পুলিশের ত্রুটির বিষয়টি। টাইপিংয়ের গলদে গ্রেপ্তারি মেমোতে লেখা হয়েছিল ভুল ধারা। তার জেরেই সোনমের জামিন পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ। এর আগে তিনবার জামিনের আবেদন করেছিলেন সোনম। প্রতিবারই তা খারিজ হয়েছিল। 

    কী ত্রুটি হয়েছিল পুলিশের তরফে? জানা গিয়েছে, সোনমকে গ্রেপ্তারের সময় মেমোতে একটি ধারা ভুল লেখা হয়েছিল। ৪০৩ (১) ধারা উল্লেখ করা হয় সেখানে। তবে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় (বিএনএস) এমন কোনো ধারাই নেই। বিএনএস-এ খুনের মামলার ধারা ১০৩ (১)। ৪০৩ (১)-এর অস্তিত্ব ছিল এর আগে চালু থাকা ভারতীয় দণ্ডবিধিতে (আইপিসি)। অসাধু উপায়ে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে সেই ধারায় মামলা হতো। টাইপিংয়ে ভুলের কারণেই মেমোতে এই বিভ্রাট! পুলিশ আদালতে জানিয়েছে, ‘প্রক্রিয়াগত ভুল’ হয়েছে। তবে আদালত এই যুক্তি গ্রাহ্য করেনি। কোর্ট বলেছে, অভিযুক্তের অধিকার রয়েছে, তাঁকে কোন ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানার। তবে নথি দেখে বোঝা যাচ্ছে, ১০৩ ধারায় গ্রেপ্তার করার কথা সোনমকে জানানোই হয়নি। কেবল একটি নথি নয়, একাধিক নথিতে একই ভুল ধারার উল্লেখ রয়েছে। আদালত আরও একটি যুক্তি দিয়েছে। সোনমকে যখন প্রথমবার উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর আদালতে তোলা হয়, তখন তার সঙ্গে আইনজীবী থাকার প্রমাণ মেলেনি। এ কারণে সে আপত্তি জানাতে পারেনি বলে মনে করা হচ্ছে। মঙ্গলবার শর্তসাপেক্ষ জামিন পেয়েছে সোনম। আদালত জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া এলাকার বাইরে যেতে পারবে না। পালাতে পারবে না, প্রমাণ নষ্ট করতেও পারবে না। প্রতিটি শুনানিতে আদালতে হাজিরা দিতে হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)