নয়াদিল্লি: দিনকয়েক আগেই পহেলগাঁও হামলার বর্ষপূর্তি ছিল। তবে শুধু পহেলগাঁও নয় জম্মু-কাশ্মীরজুড়ে বারংবার জঙ্গি হামলার নেপথ্যে প্রায়শই পাকিস্তানের নাম উঠে আসে। অপারেশন সিন্দুরের সময় পাকিস্তানের ঘরে ঢুকে জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে ইসলামাবাদকে কোণঠাসা করার চেষ্টা। সর্বত্রই জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা হিসাবে পাকিস্তানকে কাঠগড়ায় তুলেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। অথচ সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তানের নামই নিলেন না প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সম্প্রতি কিরঘিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত সাংহাই কো অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের কোনো দেশ হয় না। কোনো ধর্ম নেই।’ কোথাও একবারও সরাসরি পাকিস্তানের নাম নেননি তিনি। সেই বিষয়টিকে হাতিয়ার করেই বুধবার আক্রমণ শানাল হাত শিবির। কংগ্রেসের বক্তব্য, এতকিছুর পরও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাকিস্তানের নাম নেননি। সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর পাকিস্তানকে রীতিমতো ক্লিনচিট দিলেন। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। পাকিস্তানকে দায়মুক্ত করে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এহেন বক্তব্য দেশবিরোধী। এদিন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন— ‘আমেরিকার প্রতি তোষণ ও পরিস্থিতি বুঝে চীনের কাছে আত্মসমর্পণ করাই প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদির বিদেশ নীতি। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য সেই দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রীর সুরেই পাকিস্তানকে ক্লিনচিট দিয়েছেন রাজনাথ সিং। পাকিস্তান কি তাহলে সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর নয়? সেখানে কি জঙ্গিদের কোনো ঘাঁটি নেই, যাদের নিশানায় ভারত রয়েছে? পাকিস্তানে কি ভারত বিরোধী ভাবনা-চিন্তাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না? মুম্বই ও পহেলগাঁও হামলার নেপথ্যে কি পাকিস্তানের জঙ্গিরা ছিল না?’ ২০২০ সালের ১৯ জুন, চীনা অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্তব্যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনেও রাজনাথ সিংকে তুলোধোনা করেন কংগ্রেস নেতা।