কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে করিমপুর শান্তিতে সম্পন্ন নির্বাচন
বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
কল্লোল প্রামাণিক, করিমপুর: কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা এবং নির্বাচন কমিশনের নজরদারিতে বুধবার শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হল করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ পর্ব। সকাল থেকেই করিমপুরের বিভিন্ন বুথে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অধিকাংশ বুথেই সাধারণ মানুষ শান্ত পরিবেশে নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছেন বলে তাঁরা জানিয়েছেন। তবে দুপুরের পর থেকে কয়েকটি বুথে ভোটারদের ভিড় কিছুটা বাড়ে। এই বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ২৬২টি বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছিল। বুথের বাইরে টহল, ভোটারদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এই সব ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায়। বহু জায়গায় অসুস্থ, প্রবীণ বা শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের বুথ পর্যন্ত পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছেন জওয়ানরা।
ভোটারদের একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘদিন পর এত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে তাঁরা খুব খুশি। প্রশাসনের তরফেও দাবি করা হয়েছে, মানুষ নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছেন। কোথাও বড়ো কোনো অশান্তি বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। যদিও সকালে থানারপাড়া থানার মোক্তারপুর এলাকায় ৬০ ও ৬১ নম্বর বুথের সামনে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, রাজ্য পুলিশের পোশাক পরা একজন পুলিশ কর্মী বুথের বাইরে দাঁড়িয়ে ভোটারদের তৃণমূল প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা বলছিলেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে এর প্রতিবাদ জানান কংগ্রেস প্রার্থী পূজা রায়চৌধুরী। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে।
এদিনের ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের করিমপুর-২ ব্লক সভাপতি সৌমেন বিশ্বাস বলেন, বিজেপি একদিকে এবং কংগ্রেস-সিপিএম আলাদাভাবে লড়াই করলেও সাধারণ মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে তৃণমূলের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন। করিমপুর কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন। অন্যদিকে বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি সুরজিৎ জোয়ারদার দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের কড়া নিরাপত্তায় এবার শাসক দল কোথাও বুথ দখল, ছাপ্পা ভোট বা বুথ জ্যাম করতে পারেনি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোটাররা নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছেন বলেই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব হয়েছে।
সিপিএমের করিমপুর-২ এরিয়া কমিটির সম্পাদক লিয়াকত হোসেন বলেন, দু’-একটি জায়গায় তৃণমূল কর্মীরা ভোটারদের ভয় দেখানো ও ভোটদানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে আমাদের কর্মীদের বাধার মুখে তারা সফল হতে পারেনি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে সাধারণ মানুষ অন্তত নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছেন। ভবিষ্যতেও প্রত্যেক নির্বাচনে এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকা প্রয়োজন।
সারাদিনের ভোটপর্ব শেষে করিমপুরের রাজনৈতিক মহলে এখন শুরু হয়েছে ফলাফল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কোন দলের ঝুলিতে যাবে করিমপুরের আসন, তা জানতে এখন শুধুই অপেক্ষা।