সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: চার বছর কেটে গেলেও উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাইব্রিড সিসিইউ-র সামনে রোগীর পরিবারের সদস্যদের অপেক্ষা করার জন্য কোনো স্থায়ী আস্তানা তৈরি হয়নি। ফলে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা অসংখ্য মানুষ।
হাসপাতালের সিসিইউতে রোগী ভর্তি করার সময়ই পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেওয়া হয়, সারাক্ষণ একজনকে বাইরে অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু সেই অপেক্ষার জন্য নেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। অভিযোগ, হাইব্রিড সিসিইউ-এর সামনে খোলা আকাশের নীচেই বসে বা দাঁড়িয়ে সময় কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীর পরিজনেরা। বৃষ্টি নামলেই করিডরে আশ্রয় নিতে হচ্ছে, যেখানে রাত কাটাতে অনেকেই বিছানা পেতে থাকছেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে হাসপাতালে কোনো পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম না থাকায়। ফলে রোগীর খবরাখবর জানতে বা প্রয়োজনে ডাক পড়লে পরিবারের লোকদের কাছাকাছি থাকতে হচ্ছে। প্রসূতি বিভাগ ছাড়া বাকি সব ওয়ার্ডেই এই খামতি রয়েছে। এতে হাসপাতালের সর্বত্র করিডরের ভিড় বাড়ছে। অনেকেই মশারি টাঙিয়ে রাত কাটাচ্ছেন, দিনভর সেখানেই খাওয়া-দাওয়া করছেন। জামা কাপড় কেচে শুকোচ্ছেন। এর ফলে হাসপাতাল চত্বরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ, চারদিকে নোংরা জমছে, এমনকী গবাদি পশুও ঘুরে বেরাচ্ছে এবং করিডরে পড়ে থাকছে গোবর।
এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীর পরিবারের সদস্যরা। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, নিরাপত্তারক্ষীরা দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছেন না। অন্যদিকে, নিরাপত্তারক্ষীদের বক্তব্য, রাতে বা বৃষ্টির সময় মানুষজন বাধ্য হয়েই করিডরে উঠে আসেন। কারণ তাঁদের জন্য আলাদা কোনো প্রতীক্ষালয় নেই। মানবিক কারণে তাঁদের সরিয়ে দেওয়াও সম্ভব হয় না।
হাসপাতালের অতিরিক্ত সুপার ডাঃ নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং শীঘ্রই এ নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রতীক্ষালয় তৈরির প্রসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ৫০ বেডের নতুন করে সিসিইউ ইউনিটের কাজ প্রায় শেষ। সেটি চালু হলে বর্তমান হাইব্রিড সিসিইউ-এর আর প্রয়োজন হবে না এবং নতুন ভবনে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে। তবে নতুন ইউনিট কবে চালু হবে, তা নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে আপাতত রোগী ও তাঁদের পরিবারের দুর্ভোগ কমছে না। • এই করিডরই ভরসা রোগীর পরিজনদের। - নিজস্ব চিত্র।