৭ ঘণ্টা মুষলধারে বৃষ্টি, সুখানি-রাঙাতি নদীর হড়পা বানে জলমগ্ন ৩০টি বাড়ি
বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: গত বছরের ৫ অক্টোবরের দুর্যোগের পুনরাবৃত্তির আতঙ্কে মঙ্গলবার রাতভর জেগে কাটালেন বামনডাঙা চা বাগানের মডেল ভিলেজ সহ গোটা নাগরাকাটার বাসিন্দারা। রাতে অবিশ্রান্ত বৃষ্টি হয়। হড়পা বানে সুখানি ও রাঙাতি নদীর জল বেড়ে গিয়ে বেশ কয়েকটি এলাকায় ঢোকে। এতে ৩০টি বাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। জলস্রোতে নদীর কয়েকটি গার্ডওয়ালও ধসে গিয়েছে। বেশকিছু কালভার্ট ভেঙে বিছিন্ন হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ভেঙেছে একটি কংক্রিটের বাঁধ। হু হু করে গ্রামে নদীর জল ঢোকায় রাতেই আতঙ্কে কয়েকটি এলাকার মানুষ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। সরিয়ে নিয়ে যায় ছোট গাড়ি, বাইক সহ ঘরের দামি জিনিসপত্র। সব মিলিয়ে রাত জেগেই কাটান নাগরাকাটার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
বামনডাঙা মডেল ভিলেজের বাসিন্দা সোরেল টিগ্গা বলেন, রাতভর মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে টন্ডু থেকে ফোন আসে। সেখানে থাকা আমাদের এক আত্মীয় জানান টানাটানি নদীর জল বেড়ে গিয়েছে। জলঢাকা নদীরও জল বাড়ছে, আমরা যাতে সাবধানে থাকি। আতঙ্কে সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। রাতভর জেগেই কাটাই।
নাগরাকাটা বস্তির হাসু শেখ বলেন, রাতে সুখানি নদীর জল বেড়ে গিয়ে আমাদের বাড়ির উপর দিয়ে স্রোত বইতে থাকে। আমরা পরিবারের ১২ জন কোনোভাবে ঘর থেকে বেরিয়ে পাকা রাস্তায় গিয়ে উঠি। রাস্তার উপরই রাতভর ছিলাম। টোটোচালক সুজান শেখ বলেন, সুখানির জল বেড়ে আমাদের বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়ে। টোটো চালিয়ে উপার্জন করি। খুব কষ্টে টোটোটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাই। ওই এলাকারই বাসিন্দা তথা সুলকাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সুদামা ওরাওঁয়ের কথায়, যেভাবে রাতে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছিল তাতে এলাকার ৩০টি বাড়িতে নদীর জল ঢুকে পড়ে। ৫ অক্টোবর নদীর জলস্ফীতির কথা মনে পড়ে যায়। ওই ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
নাগরাকাটার বিডিও জয়প্রকাশ মণ্ডল বলেন, হড়পা বান এসেছিল। শুনেছি ৩০টি বাড়িতে সুখানি নদীর জল ঢুকে পড়েছিল। আমাদের একটা টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। রিপোর্ট হাতে পেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।
স্থানীয় সূত্রে জনা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ৯টা নাগাদ বজ্র-বিদ্যুৎ সহকারে বৃষ্টি শুরু হয়। মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে ঘনঘন বজ্রপাতে বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে, আচমকাই সুখানি নদীর জল বেড়ে যায়। যার ফলে সুখানিবস্তি, নাগরাকাটা বস্তি ও বিজয়নগর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। অবিশ্রান্ত বৃষ্টি চলে বুধবার ভোর ৪টে পর্যন্ত। সুখানি নদীর জলে প্রচুর গাছের গুঁড়ি ভেসে আসে। একটি গাছের গুঁড়ি হজরত শেখের বাড়িতে এসে আটকে পড়ে। নয়াসাইলি চা বাগানে একটি কালভার্ট ভেঙে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে এদিন পড়ুয়ারা স্কুলে আসতে পারেনি।
উল্লেখ্য, গত বছর ৫ অক্টোবর বিভিন্ন নদীর জলস্ফীতিতে প্লাবন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বামনডাঙা মডেল ভিলেজেই ১১ জন মারা গিয়েছিলেন। বহু বাড়িঘর ভেসে গিয়েছিল। মারা গিয়েছিল কয়েকশো গবাদি পশু। ভেঙে গিয়েছিল কয়েকটি কালভার্টও। • ভেঙেছে সুখানি নদীর বাঁধ। - নিজস্ব চিত্র।