• কালোচিতার রুট ‘বাঘীরা’স ট্রেইল’ ঘুরে দেখলেন ট্যুর অপারেটররা, মধ্যাহ্ন ভোজে বিচুটি পাতার ঝোল, ঢেঁকিশাক, গুন্দ্রুক স্যুপ
    বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ‘বাঘীরা’স ট্রেইল’ থেকে টয় ট্রেনে ভ্রমণ। চা বাগান ও জঙ্গল পরিদর্শন। বুধবার কার্শিয়াংয়ের সংশ্লিষ্ট দর্শনীয় স্থানগুলি দেশের বিভিনন্ন প্রান্তের ট্যুর অপারেটরদের ঘোরানো হয়। বনদপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে এমন আয়োজন করে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে মধ্যহ্ন ভোজে ছিল স্থানীয় পদ। যেমন বিচুটি পাতার ঝোল, ঢেঁকি শাক, গুন্দ্রুক স্যুপ প্রভৃতি। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের বক্তব্য, তামাম বিশ্বের পর্যটকদের কাছে কার্শিয়াংকে তুলে ধরতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

    দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ট্যুর অপারেটরদের নিয়ে মঙ্গলবার এই ভ্রমণ শুরু হয়। এতে শামিল হন ১৫ জন ট্যুর অপারেটর। দ্বিতীয় দিনের ভ্রমণে ‘বাঘীরা’স ট্রেইল’ ট্যুর অপারেটরদের পরিদর্শন করানো হয়। ওই ট্যুর অপারেটর দলের অন্যতম সদস্য অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজমের কনভেনর রাজ বসু বলেন, একাধিকবার কার্শিয়াংয়ের জঙ্গলে দেখা মিলেছে ‘মিলানেস্টিক’ কালোচিতার। এজন্যই ইদানিং এই অঞ্চল বাঘীরা’স (রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের দ্য জাঙ্গল বুক-এ কালো চিতাবাঘের নাম ছিল বাঘীরা) ট্রেইল নামে পরিচিত। পর্যটন শিল্পের বিকাশ করতে এদিন সংশ্লিষ্ট রুটে ট্যুর অপারেটরদের নিয়ে যাওয়া হয়। 

    এর বাইরে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের মিউজিয়াম, ডাউহিল ফরেস্ট, বিভিন্ন চা বাগান তাঁদের ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছে। জঙ্গলের রাস্তায় স্থানীয়দের সঙ্গে প্রাতঃভ্রমণ করানো হয়েছে। টয় ট্রেনেও চেপেছেন ট্যুর অপারেটররা। সেই সঙ্গে তাঁদের সামনে তুলে ধরা হয় স্থানীয় কৃষ্টি, সংস্কৃতি, পোশাক। মধ্যাহ্ন ভোজে ভাত, ডাল, মাছ, মাংসের সঙ্গে ছিল স্থানীয় নানান ধরনের খাবার। যেমন গুন্দ্রুক স্যুপ। রাইশাক সহ বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি পাতা শুকিয়ে রেখে এই স্যুপ তৈরি হয়। হালকা বৃষ্টি, ঠান্ডার দিনে এই স্যুপ গা গরম রাখে। এছাড়া বিচুটি পাতার ঝোল, ঢেঁকিশাক, ধনেপাতার চাটনি প্রভৃতি। বিচুটি পাতার সবুজ ঝোল পেট পরিষ্কার রাখে। এরবাইরে এখানে টি ট্যুরিজমের সার্কিট রয়েছে। 

    পাহাড়ের ‘রানি’ দার্জিলিং ক্রমশ গতিময় হয়ে উঠছে। ঘুম থেকে দার্জিলিং রুটে তীব্র যানজট হচ্ছে। এই অবস্থায় পাহাড় ঘিরে নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ অনেক দিনের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার প্রশাসনিক বৈঠকে নির্দেশ দেন। এমন প্রেক্ষাপটে কার্শিয়াং পাহাড়কে তামাম বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চাইছে বনদপ্তর ও দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, কার্শিয়াং শুধু ট্রানজিট পয়েন্ট নয়। ‘বাঘীরাস ট্রেইলের’ মাধ্যমে এখানে পর্যটকদের থামাতে চাইছি। এখানকার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়ে তাঁদের দার্জিলিং পৌঁছনোর উৎসাহ দিচ্ছি। 

    অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজমের কনভেনর বলেন, শৈলশহর দার্জিলিং যাওয়ার আগে পর্যটকরা যাতে কার্শিয়াংয়ে দু’রাত কাটিয়ে যান, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। • নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)