জীর্ণ বিল্ডিংয়ে ক্লাস, পঠনপাঠন নিয়ে সমস্যায় দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়
বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, বালুরঘাট: নিজস্ব বিল্ডিং নেই। অন্যের দেওয়া বিল্ডিং-ই ভরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের। কিন্তু সেই বিল্ডিংও পুরনো এবং জীর্ণ হওয়ায় সমস্যায় পড়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়। পুরনো ভবনের নানা জায়গায় ফাটল। ক্লাসরুমের ছাদের চাঙর খসে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলারের ঘরের ছাদও রীতিমতো খসে পড়ছে। বৃষ্টি শুরু হতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। বেহাল ভবন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সমস্যায় পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, নতুন বিল্ডিংয়ের জন্য জেলা প্রশাসন এবং উচ্চ শিক্ষা দপ্তরে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও নতুন বিল্ডিং মেলেনি। নতুন বিল্ডিং না পেলে বিশ্ববিদ্যালের পঠনপাঠন থেকে অফিসের কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রণব ঘোষের কথায়, আমাদের নিজস্ব বিল্ডিং না থাকায় সমস্যা বাড়ছে। পুরনো ভবনের অনেক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ছাদের একাংশ খসে পড়ছে। এতদিন ভোটের কারণে সমস্ত কাজ থমকে ছিল। এবার আশা করছি, নতুন বিল্ডিং পাওয়া যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার রিপন সাহা বলেন, ক্লাসরুমের বিল্ডিংগুলি পুরনো হওয়ায় অনেক জায়গাতে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক ভবনের দেওয়ালের পলেস্তারাও খসে পড়ছে। আশা করছি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।
২০২১ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইংরেজি এবং গণিত বিষয় নিয়ে পঠনপাঠন চালু করেছিল দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়। তৎকালীন উপাচার্য দেবব্রত মিত্র প্রথমে বালুরঘাট মহিলা মহাবিদ্যালয়ে অফলাইন মুডে পড়াশোনা চালু করেছিলেন। পরবর্তীকালে বালুরঘাট মহিলা মহাবিদ্যালয় থেকে বালুরঘাট বিএড কলেজের পুরনো একটি হস্টেলে বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তরিত হয়। বালুরঘাট বিএড কলেজ কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়কে বিনামূল্যে ওই বিল্ডিং ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু ওই বিল্ডিং ব্যবহারে সমস্যায় পড়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বালুরঘাটের মাহিনগরে নির্ধারিত একটি জায়গা রয়েছে। সেই জায়গায় বিল্ডিং তৈরির জন্য উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের কাছে ফান্ডের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। আপাতত অন্য কোথাও একটি বিল্ডিং নিয়ে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন চলে, তার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেসব কিছুই মেলেনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশা, ভোট মিটে গিয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব হবে। আশায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পড়ুয়া সৌরভ দেবনাথ এবং অভিজিৎ মাহালি বলেন, পুরনো বিল্ডিংয়ে আমাদের ক্লাস করতে নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। পলেস্তারা খসে পড়ছে। ছাদও দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমরা নিরাপত্তার অভাববোধ করছি। নতুন বিল্ডিং কবে পাব, জানি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসও কবে হবে, উত্তর অজানা। ঘরের ভিতরে জানলার উপরে ও (ইনসেটে) ছাদে ফাটল।-নিজস্ব চিত্র