বহরমপুরে গ্যাসের ব্যাপক কালোবাজরি , ২৫ দিনেও মিলছে না সিলিন্ডার পিছু হাঁকছে ২৪০০ টাকা
বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, বহরমপুর: রান্নার গ্যাস নিয়ে বহরমপুর শহরের মানুষের উৎকন্ঠা ক্রমশ বাড়ছে। রান্নার গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক বলে কেন্দ্র সরকারের পেট্রলিয়াম মন্ত্রক দাবি করছেন। অথচ বহরমপুর শহরে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের কালোবাজারি এখনও বন্ধ হয়নি। শহরে ২২০০-২৪০০ টাকায় রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের কালোবাজারি চলছে। গ্যাসের লাগামছাড়া কালোবাজারির দাপটে শহরের বহু ব্যবসায়ী ফের কাঠ বা কয়লার উনুনের দিকেই ফিরে আসছেন। গ্যাস গ্রাহকদের দাবি, গ্যাস বুকিংয়ে কেন্দ্র সরকারের বেঁধে দেওয়া ২৫ দিনের সময়সীমাই কালোবাজারিদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। কারণ বহু পরিবার রয়েছে যাঁদের একটি সিলিন্ডারের গ্যাস ২৫ দিনের আগেই শেষ হয়ে যায়। বুকিংয়ের পর আরও তিন চারদিন অপেক্ষা করতে হয়। ফলে সংসার চালাতে তাঁদের বাধ্য হয়েই আড়াই থেকে তিনগুন দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। সরবরাহ যখন স্বাভাবিক তখন কেন্দ্র সরকারের অবিলম্বে গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমার নির্দেশিকা তুলে নেওয়া উচিত। গ্যাস নিয়ে পরিবারগুলিতে ক্ষোভ ক্রমশ দানা বাধছে।
বহরমপুর কলেজঘাট এলালায় নানপুরির দোকান রয়েছে মঞ্জু মণ্ডলের। স্বামী স্ত্রী দু’জনে দীর্ঘদিন ধরে দোকান চালান। মঞ্জুদেবী বলেন, কালোবাজারে ২৪০০ টাকায় গ্যাস কিনে দোকান চালিয়ে লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছিলাম না। বাধ্য হয়ে দুটো উনুন ব্যবহার করছি। ভোট মিটলে ব্যবসার কী হাল হবে আন্দাজ করতে পারছিনা। গোরাবাজার এলাকার তেলেভাজা বিক্রেতা নীলু হাজরা বলেন, চপ, বেগুনি, ফুলরি, পেঁয়াজির দাম বাড়াতে পারছিনা। অথচ গ্যাসের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। দোকান চালাতে গ্যাস জোগাড় সমস্যার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতির মাঠ এলাকার বাসিন্দা অর্জুন পাল বলেন, ছ’জনের সংসার। খুব বুঝে গ্যাস ব্যবহার করেও একটা সিলিন্ডার কুড়ি দিনের বেশি যায় না। আমাদের মতো কম আয়ের সংসারে কালোবাজারে গ্যাস কেনার সামর্থ নেই। কয়লার উনুনে রান্না করতে গিয়েও প্রতিবেশীরা ধোঁয়ার অভিযোগ তুলছেন।
মঞ্জুদেবী, নীলুবাবু বা অর্জুনবাবুরাই এই সমস্যায় ভুগছেন না। শহরের অধিকাংশ মানুষ একই সমস্যায় বিব্রত হয়ে পড়েছেন। তাঁদের সমস্ত ক্ষোভ গিয়ে পড়ছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের উপর। তাঁদের অভিযোগ, মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে বিজেপি সরকারের ব্যর্থতার খেসারত গুনতে হচ্ছে।