সাতদিন আগে মামার মৃত্যুর পর তীব্র মানসিক অবসাদ, পেটে ছুরি চালিয়ে যুবক আত্মঘাতী
বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পাইকরে পেটে ছুরি ঢুকিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। জানা গিয়েছে, ওই যুবকের মৃত্যুর সাত দিন আগে মারা গিয়েছেন তাঁর মামা। তারপর থেকেই অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে যুবক। পরিবারের লোকজন মনে করেছিলেন তাঁকে ‘ভুতে ধরেছে’। সেই ভ্রান্ত ধারণা থেকেই তাঁরা যুবককে ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে শৌচাগারে যাওয়ার নাম করে মুরগির মাংসের দোকানে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে নিজের পেটে আঘাত করেন। পরিবারের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। বুধবার সকালে মর্মান্তিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পাইকর থানার জাজিগ্রামে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম অজেস কোড়া (৩০)। বাড়ি মুরারই থানার আম্ভুয়া গ্রামে। দিন সাতেক আগে তাঁর মামা লাল কোড়া মারা যান। মামার সঙ্গেই সবসময় থাকতেন অজেস। প্রিয়জনকে হারানোর ধাক্কা নিতে না পেরে বাস্তব জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তীব্র অবসাদ থেকে অস্বাভাবিক আচরণের পাশাপাশি ‘ভুল’ বকতে শুরু করেন। মঙ্গলবার সারারাত না ঘুমিয়ে শুধুই প্রলাপ বকছিলেন ওই যুবক। পরিবার ওই যুবকের আচরণ ‘ভৌতিক’ মনে করে এদিন সকালে বেঁধে পাইকর থানার জাজিগ্রামে এক ওঝার কাছে নিয়ে আসেন। তাঁর স্ত্রী তাপসী কোড়া বলেন, ওঝার ঝাড়ফুক চলাকালীন স্বামী শৌচালয়ে যাব বলে বেরিয়ে পাশের মুরগির মাংসের দোকানে ঢুকে পড়ে। সেখানে বঁটি নিয়ে নিজেকে আঘাত করতে যায়। দোকান মালিক ভয়ে দৌড়ে বেরিয়ে আসেন। ঠিক সেই সময় ওই দোকানে থাকা ধারালো ছুরি নিজের পেটে ঢুকিয়ে দেন অজেস। ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়েন সকালে। তড়িঘড়ি তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পাইকর ব্লক হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত বলে জানিয়ে দেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন তাপসী ও তাঁর পরিজনরা। তাঁদের কাছে এটি দ্বিগুণ ধাক্কা, একদিকে প্রিয়জন হারানোর শোক কাটাতে না কাটাতেই মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে আরও এক তরতাজা যুবকের অকাল প্রয়াণ। তাপসী বলেন, যেখানে তাকে সুস্থ করতে ওঝার কাছে আনা হয়েছিল, সেখান থেকেই কৌশলে বেরিয়ে গিয়ে তিনি নিজেকে শেষ করার পথ বেছে নিলেন। এটি আমরা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। বাড়িতে দুটো ছোট ছেলে। এখন কী যে হবে ভেবে পাচ্ছি না।
এব্যাপারে রামপুরহাট মেডিকেলের মনোরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সন্দিপন নায়েক বলেন, আপাতদৃষ্টিতে যেটি মনে হচ্ছে এই রোগী হয়তো কোনো সাইকোসিস বা সিজোফ্রেনিয়ার শিকার হয়ে থাকতে পারে। এক্ষেত্রে কোনো ভ্রান্ত বদ্ধমূল ধারণার বশবর্তী হয়ে কেউ কোনোকিছু তাঁর উপরে চাপিয়ে দিচ্ছে বলে রোগীর মনে হতে পারে। এর থেকে ওই যুবক এই কাজ করে থাকতে পারে। এক্ষেত্রে আমাদের সব সময় উচিত সচেতনতা বৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়া। মানসিক রোগের কোনোরকম লক্ষণ দেখা গেলেই যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। সুচিকিৎসার দ্বারা অন্যান্য শারীরিক রোগের মতোই এই সব মানসিক রোগের নিরাময় সম্ভব । সেক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে এড়ানো সম্ভব হবে। পুলিশ জানিয়েছে, একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে।