• ভোর থেকেই লাইনে মমতার ‘লক্ষ্মীশক্তি’, আশাবাদী জেলার তৃণমূল নেতারা
    বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • সুখেন্দু পাল, জামালপুর: মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠেছিলেন জামালপুরের আঝাপুর গ্রামের সুমনা পাত্র। কাজ সেরে সাত সকালেই এক বছরের শিশুকে কোলে নিয়ে তিনি ভোটকেন্দ্রে হাজির হয়েছিলেন। ভোটকেন্দ্রে এসে দেখেন লম্বা লাইন। শিশুকে কোলে নিয়েই দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর ভোট দিলেন তিনি। সুমনা বলেন, এবছর ভোট না দিলে নিজেকে অকৃতজ্ঞ মনে হত। তাই তড়িঘড়ি বাড়ির কাজ সেরে ভোটকেন্দ্রে এসেছিলাম।

    মেমারির দেবিকারানী রায়ের বয়স ৮৯ বছর। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারেন না। পরিবারের এক সদস্য তাঁকে কোনোরকমে ভোট কেন্দ্র নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ৮৫ ঊর্ধ্ব ভোটারদের বাড়িতেই ভোট নিয়েছেন। আগাম জানতে না পারায় তিনি সেই সুযোগ পাননি। ভোটের দিন সকালে উঠেই তিনি ভোট কেন্দ্রে আসার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। মেমারির বাসিন্দা নমিতা সরকার বলেন, আমি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুযোগ পাচ্ছি। মেয়ে এবার যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পেয়েছে। দেড় বছর আগে আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকায় বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে গিয়ে তাঁর চিকিৎসা করিয়েছিলাম। এতকিছু সুযোগ পাওয়ার পরও ভোট না দিলে নিজেকে অকৃতজ্ঞ বলেই মনে হত। 

    এদিন সকাল থেকেই বর্ধমান, জামালপুর, খণ্ডঘোষ, রায়না, মেমারি, পূর্বস্থলী উত্তর এবং দক্ষিণ সহ প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রেই ছিল মহিলাদের উপচে পড়া ভিড়। ভোট শুরু হওয়ার আগে থেকেই তাঁদের অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আবার দুপুর ১২টাতেও বহু বুথে এই মহিলাদের লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। নারীশক্তির এমন উচ্ছ্বাস দেখে খুশি তৃণমূল কংগ্রেস। 

    বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাস বলেন, মা বোনেরাই বিজেপিকে  বুঝিয়ে দিয়েছে বাংলার মাটি বহিরাগতদের এনে এভাবে দখল করা যায় না। সব কাজ ছেড়ে মহিলারা ভোট দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেয়েদের কথা ভেবেছেন। তাঁদের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রূপশ্রী সহ বিভিন্ন প্রকল্প এনেছেন। মহিলারা স্বনির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন। সেই কারণেই তাঁরা এদিন এভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র অবশ্য বলেন, মেয়েরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন।

    এদিন জেলার বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গিয়েছে, ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের লাইন লম্বা। রাজনৈতিক মহলের মতে, অতীতে নির্বাচনগুলিতে দেখা গিয়েছে মহিলাদের বেশিরভাগ ভোট তৃণমূলের পক্ষে গিয়েছে। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করে তৃণমূল মহিলাদের মন জয় করতে পেরেছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট প্রচার ও এই প্রকল্পকে হাতিয়ার করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন কোনো দিনই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হবে না। আজীবন এই প্রকল্প চলবে। মহিলারা তা বিশ্বাস করেছেন। সেই কারণেই গলসি থেকে কালনা, সর্বত্রই এমন উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)