• ‘ভোট দিয়েই ফিরব’, দুর্ভোগেও সল্টলেকজুড়ে উৎসাহেরই ছবি, জয় নিয়ে প্রত্যয়ী তৃণমূল প্রার্থী সুজিত
    বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: জলপাই রঙের পোশাক। হাতে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল। কেন্দ্রীয় বাহিনীতে ছয়লাপ ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। যেন ‘যুদ্ধক্ষেত্র’! সামনে ভোটারদের লম্বা লাইন। বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, মহিলা, তরুণ-তরুণী সকলেই। স্লো ভোটিং। লাইন লম্বা হচ্ছে আরো। মাথার উপর কালো আকাশ। হঠাৎ, বৃষ্টি। কেউ ব্যাগ থেকে ছাতা খুলছেন। ছাতাহীনরা দাঁড়িয়েই ভিজছেন। লাইন ছাড়ছেন না। কেন? এক ভোটার নিজেই উত্তর দিলেন। বললেন, ‘এসআইআর নিয়ে তো হয়রানি দেখেছেন। এবার ভোট না দিলে পরে কী করবে জানি না। তাই যত দুর্ভোগই হোক, ভোট দিয়েই বাড়ি ফিরব’!

    বুধবারের ‘গণতন্ত্রের সকাল’। সল্টলেকের ভারতীয় বিদ্যাভবন স্কুল। সেখানকার ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে বহু ভোটারের মুখেই শোনা গেল এমন কথা। মহিলাদের লম্বা লাইন। সেখানে ৯ খানা বুথে প্রায় ৭ হাজার ভোটার। সল্টলেক সুকান্তনগর এলাকা। বৃষ্টির মধ্যেই সেখানে ছাতা হাতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। সেই লাইন বুথ ছাড়িয়ে এসেছে রাস্তার উপর। কিন্তু, ভোট না দিয়ে কেউ এক পাও পিছু হচ্ছে না। সল্টলেক এ ই ব্লকের ভগবতীদেবী বালিকা বিদ্যালয়ের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে এক ভোটারের কথায়, এবারের ভোট সত্যিই অন্যরকম। তাই সাক্ষী থাকতে ভোট দিতে এলাম। কালি লাগানো বাঙালির তর্জনীর ছবিও তুলে রাখলাম।

    দুপুর গড়াতেই বৃষ্টি উধাও। তবে, সল্টলেকের রাস্তায় যেন অঘোষিত বন্‌ধ। বন্ধ প্রায় সব দোকানপাট। ফাঁকা রাস্তা। যানবাহন নেই। নেই লোকজনও। তবে, ব্লকে ব্লকে ভোটারদের লাইন। সল্টলেক বিধাননগর বিধানসভার অন্তর্গত। তৃণমূল কংগ্রেসের চারবারের বিধায়ক তথা পঞ্চমবারের প্রার্থী সুজিত বসু, বিজেপির ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, সিপিএমের সৌম্যজিৎ রাহাসহ এবার বিধাননগরের প্রার্থী সংখ্যা ১০। এর মধ্যে পাঁচজন নির্দল। সেই নির্দলেও একজন সুজিত বসু রয়েছেন! ভোট শুরুর পর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিএম এজেন্টের কার্ড নেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী ফেসবুক লাইভ করেছেন বলেও অভিযোগ তোলে সিপিএম। যদিও কোথাও কোনো অশান্তি নেই।

    বিকেল পৌনে ৪টে। লেকটাউনে নিজের বাড়ির অদূরে গান্ধী সেবা সংঘ বুনিয়াদি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপরিবারে ভোট দেন তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু। ঠোঁটের কোণে স্মিত হাসি। জয় নিয়ে প্রত্যয়ী তিনি। ভিক্ট্রি সাইন দেখিয়ে বলেন, ‘১০০ শতাংশ জয় নিশ্চিত। ফিরছি আমরাই।’
  • Link to this news (বর্তমান)