‘রাতে কমিশনের মেসেজ, বুথে গিয়েও ভোট দিতে পারলাম না’
বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দুপুরে রোদ তখন চড়া। বাঁশবেড়িয়া পুরসভার শিবপুরের (১১ নম্বর ওয়ার্ড) বাসিন্দা মনোয়ার জামাল এসেছিলেন হাজারিপাড়ার বুথে। কিন্তু তাঁকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি! এসআইআরে জামাল ও তাঁর স্ত্রী তারানা খাতুনের নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় ছিল। পরে তালিকা থেকে নাম ‘ডিলিট’ করে দেওয়া হয়। তিনি ট্রাইবুনালে আবেদনও করেছিলেন। জামাল বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে আমার মোবাইলে মেসেজ পাঠায় কমিশন। জানানো হয়, আমাকে ও আমার স্ত্রীকে ভোটার হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। কিন্তু বুথ থেকে জানানো হয়েছে, ওই নির্দেশ তাদের কাছে আসেনি।’ সেই সময় ওই বুথ পরিদর্শনে আসেন সপ্তগ্রামের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিদেশ বসু। জামাল ছুটে যান তাঁর কাছে। ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য কাতর আবেদন করেন জামাল। বিদেশ বলেন, ‘কী অবস্থা! কমিশন চূড়ান্ত অব্যবস্থার আবহ তৈরি করেছে। দুটো মানুষ অকারণে ভোট দিতে পারছেন না।’ অসহায়তার কথা জানিয়ে বেরিয়ে যান বিদেশ বসু। সেদিকে তাকিয়ে জামাল খুব নীচু স্বরে বললেন, ‘জানেন, আমার স্ত্রী ভোট দিতে আসবে বলে তৈরি হয়ে বসে আছে। বাড়ি গিয়ে কী জবাব দেব!’
চুঁচুড়ার সুকান্তনগরের একটি বুথের কাছে ঘুরঘুর করছিলেন বৃদ্ধ মানুষটি। মলিন বেশ, চোখেমুখে উদ্বেগ। মনে হচ্ছিল, যেন কিছু খুঁজছেন! প্রশ্ন করতেই জানা গেল, তিনি আসলে খুঁজছেন তাঁর হারনো ভোটাধিকার! নাম সুভাষ রাম। বাড়ি চুঁচুড়ার পুরাতন লঞ্চঘাটে। আগে সুকান্তনগরেই থাকতেন। স্ত্রী ও তাঁর নাম বাদ পড়েছে। প্রায় কাঁদতে কাঁদতে তিনি বললেন, ‘আমার জন্ম চুঁচুড়াতেই। আমার বউয়েরও। কিন্তু আমরা ভোট দিতে পারলাম না।’ কষ্ট আর অভিমান ঝরে পড়ছিল তাঁর গলায়। তাঁকে ওই অবস্থায় দেখে দেখে আশেপাশের দু’একজন এগিয়ে এলেন। কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কথা শুনে দ্রুত সরেও গেলেন। যেন অচ্ছুৎ এক মানুষ এসে দাঁড়িয়েছেন! বিষয়টি বুঝে বৃদ্ধ সুভাষ রাম যেন আরও বিমর্ষ হয়ে পড়লেন।
রাগত মুখে চন্দননগরের কানাইলাল বিদ্যামন্দিরে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছিলেন তরুণী মিঠু চক্রবর্তী। বেসরকারি সংস্থার এই কর্মী বলেন, ‘আমার বাড়িতে ভোটার স্লিপ দিয়ে যায়নি কমিশন। আমি কমিশনের বিরুদ্ধে কোথায় অভিযোগ করব, সেটাই জানতে চাইছি। কেউ বলছে না।’ সমাধান হয়নি তাঁর সমস্যার। দিনের শেষে একরাশ প্রশ্ন নিয়েই বাড়ি ফিরলেন সুভাষ, জামাল, মিঠুরা।