ভোটে মহিলাদের উপস্থিতি নজরকাড়া, বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার নালিশ
বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: হাতেগোনা বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছাড়া নির্বিঘ্নে শেষ হল দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি সক্রিয়তার অভিযোগে সামনে এনেছে ভোটারদের বড়ো অংশ। বুধবার ভোট শেষ হওয়ার পর ভোটকর্মীরা ধীরে ধীরে ডিসি-আরসিতে এসে পৌঁছান। প্রত্যেক ভোটকর্মীর মুখে হাসি ছিল। কেন না কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার সাক্ষী হননি তাঁরা। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে মহিলাদের লম্বা লাইন ছিল। বেলা যত গড়িয়েছে মহিলা ভোটারদের লাইন তত বেড়েছে। তাহলে কি এবারের ভোটের ফ্যাক্টর মহিলা ভোট, তা নিয়েই চলছে জল্পনা।
মঙ্গলবার রাতে দেগঙ্গার সোহাই-শ্বেতপুর এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আনিসুর রহমান ওরফে বিদেশকে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে আইএসএফের বিরুদ্ধে। সেই ছবি ভাইরাল হয়েছে। আইএসএফের অভিযোগ, এলাকায় টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করতে এসেছিলেন বিদেশ। তাই তা রুখে দেওয়া হয়েছে। একপ্রকার ধাক্কাধাক্কি করে এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয় তাঁকে। কোনোরকম এলাকা থেকে চলে যান তিনি। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটকর্মীদের বিভিন্ন সামগ্রী দিতে গিয়েছিলেন প্রার্থী। সেই সময় হেনস্তা করেছে আইএসএফের লোকজন। ভোটের দিন সকালে বারাসত শহরের নওপাড়া ২১৬ নং বুথের বিজেপির এজেন্টকে হুমকি ও ফাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে জোড়া ফুল শিবির। অন্যদিকে, শাসনের দাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৪ নম্বর বুথে গামিরগাছি এলাকায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। পালটা আইএসএফ কর্মীরা এলাকায় গিয়ে তা রুখে দেয়। এদিকে বারাসাতের দ্বিজহরি কলোনিতে সকালে অশান্তির ঘটনা ঘটে। বাইরে থেকে লোক এনে অশান্তি করানো অভিযোগে বারাসত পুলিশের জালে আটক এক যুবক। আটক যুবকের দাবি, তিনি হাওড়ার বালি এলাকার বাসিন্দা। তিনি নির্দল প্রার্থী শংকর চট্টোপাধ্যায়ের হয়ে এলাকায় এসেছেন ভোটের জন্য। আমডাঙার ৮৯ নম্বর বুথে হঠাৎ করে এদিন দুপুরে জমায়েতের ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর জানার পরে এলাকায় পৌঁছয় বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। লাঠি উঁচিয়ে এলাকার জমায়েত হটায় পুলিশ।
এদিকে, ভোটের আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর মারে হাত ভাঙল এক ভোটারের। দেগঙ্গার অন্তর্গত আমুলিয়া অঞ্চলের নিরামিষার ২০৪ নং বুথে কেন্দ্র বাহিনীদের অমানবিক অত্যাচারের দৃশ্য ফুটে উঠল। স্থানীয়দের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছিল গ্রামের লোকজন রাস্তার ধারে বসেছিলেন আর সেই সময়ই অতর্কিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে সটান লাঠিচার্জ শুরু করে। তার জেরে গুরুতর আহত হয় জুলফিক্কার মোল্লা নামে যুবকসহ আরও তিনজন। জুলফিকারের হাত ভেঙেছে। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, বাইরের রাজ্যে থেকে ভোট করতে আসা পুলিশ আমাদের সঙ্গে অযথা বচসায় জড়িয়ে পড়ে। বাংলা বলাতে মারধর করেছে। বাংলা ভাষাতে কথা বলতেই মারধর করেছে। এদিন বিকেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মারে জখম হয়েছেন এক ভোটার। ঘটনাটি মধ্যমগ্রামের রোহোন্ডা-চণ্ডীগড়ের। বিকেলে ২৫৩ নম্বর বুথের ভোট দিতে আসেন এক ভোটার। অভিযোগ, কেন্দ্রিয় বাহিনীর এক জওয়ানের আগ্নেয়াস্ত্রের বাঁটের আঘাতে তিনি জখম হয়েছেন। তাঁকে বারাসত মেডিকেল কলেজে ভরতি করা হয়েছে।