• কেন্দ্রীয় বাহিনীর চোখে চোখ রেখে ভোট করলেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা
    বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের চোখে চোখ রেখে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে ভোট করালেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই এনআইএ, কেন্দ্রীয় বাহিনী যেন তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তৃণমূলের একাধিক নেতার বাড়িতে হানা দেয় এনআইএ। ভাটপাড়া পুরসভার বেশ কয়েকজন কাউন্সিলারের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে তারা। অনেক কাউন্সিলার এবং যুবনেতা ভোটের দিন এলাকায় থাকতে পারেননি। এমনকী ভোটের দিন কাঁচরাপাড়ার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার কল্যাণ করকে মারধর করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় হালিশহরের কাউন্সিলার পার্থ সাহা, যুবনেতা অভিজিৎ রায় ওরফে বনি, টিটাগরের কাউন্সিলার ইনাম খানকে। কেন্দ্রীয় বাহিনী বুথের সামনে থাকা তৃণমূলের ক্যাম্পও ভেঙে দেয়। এমনকী ভাটপাড়ায় তিন নম্বর ওয়ার্ডে ক্যাম্পে বসে থাকা মহিলারাও রেহাই পাননি।

    কিন্তু এতকিছুর পরেও টিটাগর থেকে বিজপুর পর্যন্ত জমি ছাড়েনি তৃণমূল। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের চোখে চোখ রেখে ভোট করেছেন তৃণমূল নেতারা। এদিন দলের নির্দেশ ছিল, কোনোরকম অশান্তিতে না গিয়ে সকাল থেকে ভোটারদের বুথমুখী করা। সেই কাজই করেছেন তৃণমূলের কর্মীরা। এতে বিশেষ ভূমিকা নেন দলের মহিলাকর্মীরা। তাঁরা বাড়ি বাড়ি থেকে ভোটারদের ডেকে নিয়ে আসেন। এদিকে, বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে থাকা যাবে না বলে কেন্দ্রীয় বাহিনী ফতোয়া জারি করেছিল। তাই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ১০০ মিটার দূরেই ক্যাম্পে ঘাঁটি গেড়ে বসেছিলেন। সেখানেও বারবার হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। কিন্তু এতসবের মধ্যেও তৃণমূলের কর্মী, নেতা ও প্রার্থীরা মাথা ঠান্ডা রাখেন। বিজপুরে একাধিক কাউন্সিলার এবং নেতা গ্রেপ্তার ও আক্রান্ত হলেও তৃণমূল প্রার্থী সুবোধ অধিকারী সকলকে বলেছেন, সমস্ত অত্যাচার সহ্য করে ঠান্ডা মাথায় ভোট করাতে হবে। কোনো গোলমালে জড়ানো যাবে না। তবে বারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে কয়েকটি জায়গা ছাড়া বিজেপির ক্যাম্প সেভাবে দেখা যায়নি বললেই চলে। বহু বুথে বিজেপির এজেন্ট ছিলেন না। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে অতীতের ভোটে বোমাবাজি হলেও এবারের ভোটে অন্তত বোমা, গুলির শব্দ শোনা যায়নি। তৃণমূল নেতা পার্থ ভৌমিক বলেন, এটাই তাঁর সার্থকতা। তবে এদিন জগদ্দলে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি পার্থ ভৌমিক জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী অনেক ভয় দেখিয়েছে। অনেককে গ্রেপ্তার করেছে। দলের নেতাদের বাড়ির দরজায় লাথি মেরেছে। কিন্তু দলের ছেলেরা জান দিয়ে লড়াই করেছে। বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে ভোটদানের হার ছিল ৯০%। বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার অমিতকুমার সিং জানিয়েছেন, বড় কোনো গোলমাল হয়নি। ছোটখাটো ঘটনা ঘটেছে। সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোলমালের আশঙ্কায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল। ১৬০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী গোটা বারাকপুর পুলিশ কমিশনার এলাকা জুড়ে মোতায়েন ছিল। 
  • Link to this news (বর্তমান)