রাস্তায় ছবি রেখে মৃত বাসিন্দাদের প্রতি শ্রদ্ধা রাজনৈতিক কর্মীদের
বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
স্বপন দাস, কাকদ্বীপ: ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে যাওয়ার ঢালাই রাস্তার পাশে রাখা দুটি প্লাস্টিকের চেয়ার। উপরে রাখা রয়েছে মৃত দুই প্রবীণ গ্রামবাসীর ছবি। সম্প্রতি এই দুই প্রবীণ গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজনৈতিক দলের কর্মীরা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ভোট দিতে যাওয়ার সময় বহু গ্রামবাসীকে ওই ছবির সামনে দাঁড়িয়ে প্রণাম করতেও দেখা গিয়েছে।
কাকদ্বীপ বিধানসভার শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১১৩ নম্বর বুথের ভোট গ্রহণ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছিল। তার ঠিক ১০০ মিটার দূরে গ্রামের ঢালাই রাস্তার পাশে তৃণমূল ও বিজেপি পাশাপাশি ক্যাম্প তৈরি করেছিল। আর এই ক্যাম্পের সামনে ঢালাই রাস্তার পাশে দুটি প্লাস্টিকের চেয়ার রাখা হয়েছিল। সেই চেয়ারের উপর রজনীগন্ধার মালা পরানো দুই গ্রামবাসীর ছবি রাখা হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা মৃত গ্রামবাসী প্রাক্তন শিক্ষক চিত্তরঞ্জন সাঁতরা ও সন্তোষকুমার খাটুয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। বিজেপির কর্মীরাও এই বিষয়টিতে সমর্থন জানিয়েছেন।
এবিষয়ে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব গঙ্গাধরপুর উত্তরের বাসিন্দা সুমনা জানা বলেন, ‘ভোট গ্রহণের দিন মৃত গ্রামবাসীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টি সবার মন ছুঁয়ে গিয়েছে।’ তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী অশোক মিশ্র বলেন, ‘নির্বাচনের দিন তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’
অন্যদিকে, এদিন কাকদ্বীপ, সাগরদীপ, পাথরপ্রতিমা, কুলপিতে কার্যত উৎসবের মেজাজে ভোটদান হয়েছে। সকাল থেকে ভোট দেওয়ার জন্য এই চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন পড়েছিল। তবে ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়া পর্যন্ত কোথাও কোনো গন্ডগোলের খবর পাওয়া যায়নি। সাগর বিধানসভার মুড়িগঙ্গা দুই নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কোম্পানির ছাড় মহেশ্বরী হাই স্কুলের ২১ নম্বর বুথে ভোট গ্রহণের সময় বিপত্তি ঘটে। ভোট চলাকালীন দুপুর ১২টা নাগাদ হঠাৎই ইভিএম মেশিনের যান্ত্রিক রুটি দেখা দেয়। এর ফলে প্রায় এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে ওই বুথে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। পরে মেশিন পাল্টে আবার ভোট গ্রহণ পর্ব শুরু হয়।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, চুনফুলি থেকে রামকৃষ্ণপুর পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় আট কিলোমিটার রাস্তা কেন্দ্রীয় বাহিনী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। বিশেষত ওই রাস্তায় দুই ও চার চাকার যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি পায়ে হেঁটেও যাতায়াতের ক্ষেত্রে এলাকাবাসীরা সমস্যায় পড়েন। নিজস্ব চিত্র