• ভোট করাতে বিজেপিকে টেক্কা তৃণমূলের
    বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আরামবাগ মহকুমার চারটি আসনই বিজেপি দখল করেছিল। কিন্তু, এবার ভোটে আরামবাগ, গোঘাট, খানাকুল ও পুরশুড়ার চার আসনেই তৃণমূল জোর টক্কর নিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর চোখরাঙানি উপেক্ষা করে ভোটের ময়দানে মাটি কামড়ে পড়েছিলেন তৃণমূল কর্মীরা। আরামবাগের আরাণ্ডি-১ পঞ্চায়েতের সাতমাসা এলাকায় ভোট চলছিল নির্বিঘ্নেই। তৃণমূলের অভিযোগ, সেখানে বাহিনীর জওয়ানরা তৃণমূল সমর্থকদের আচমকাই মারধর করে। তাতে কয়েকজন জখম হন। পরে খবর পেয়ে কুইক রেসপন্স টিম সেখানে যায়। তাতে আরামবাগ থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও ছিলেন। তাদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক ও ভোট দিতে আসা লোকজন। 

    স্থানীয় তৃণমূল নেতা মুন্সি ইকবাল বলেন, এই ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের আশেপাশে ঘরবাড়ি রয়েছে। বাসিন্দারা নিজেদের ঘরের বারান্দায়, দাওয়ায় বসেছিলেন। বুথ থেকে ২০০ মিটারের বেশি দূরে তাঁরা ছিলেন। তারপরেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করে। তাতে চার-পাঁচ জন জখম হন। 

    জখম এক ভোটার মইদুল হাজারি বলেন, ঘরের সামনে বসে মোবাইল দেখছিলাম। কলার ধরে টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। বাড়ির অন্যান্যরা ছাড়াতে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। অনেকে ভয়ে বাড়িতে ঢুকে পড়ে। আমি আমার বাড়ির সামনে বসে ছিলাম। তাতে আমার কী অপরাধ? লাঠির ঘায়ে পিঠ ফুলে গিয়েছে। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী বাড়ির সামনে এসেও দরজায় ধাক্কাধাক্কি করে। 

    এদিন খানাকুলের রামচন্দ্রপুর আদর্শ বিদ্যালয়ের একটি বুথে এজেন্ট বসা গিয়ে গোলমাল বাধে। সেখানে আইএসএফ-এর পোলিং এজেন্ট হিসাবে তৃণমূলের কর্মী বসে পড়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এই ঘটনার জেরে সেখানে আইএসএফ ও তৃণমূল কর্মীরা নিজেদের মধ্যে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে অবশ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বেলা গড়াতে সেখানে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে বাহিনী। একাধিকবার স্থানীয়দের লোকজনকে তাড়া করে। তাতে ভোটাররা সাময়িক আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। 

    খানাকুলের কামদেবপুর এলাকায় আইএসএফ-এর এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় জখম দলের কর্মীকে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভরতি করান আইএসএফ প্রার্থী। ঘটনার প্রতিবাদে তিনি খানাকুল থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। তৃণমূল অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এদিন বিকালে গোঘাটের কামারপুকুর পঞ্চায়েতের সামনে ইভিএম ভরতি একটি গাড়ি দেখে চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ, সেই সময় গাড়ির সঙ্গে কোনো নিরাপত্তারক্ষী ছিল না। এদিন আরামবাগ, খানাকুল, পুরশুড়া ও খানাকুল বিধানসভার একাধিক বুথে ইভিএম মেশিন বিকল হয়ে যায়। তার জেরে ব্যাঘাত ঘটে ভোট প্রক্রিয়ায়। 

    এদিন খানাকুল থানার অরুণ্ডা পঞ্চায়েতের চব্বিশপুর এলাকায় সামান্য দূরত্বে পুরশুড়া বিধানসভার তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে ক্যাম্প করেন দুই দলের কর্মীরা। দুই দলই ভোটারদের জন্য গুড় বাতাসা ও জলের ব্যবস্থা করেছিল। এদিন প্রায় প্রত্যেক বুথেই মহিলাদের ছিল লম্বা লাইন। ভোট গ্রহণ শুরুর আগে থেকেই মহিলারা লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। দুপুরেও কড়া রোদে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা যায় খানাকুলের একাধিক বুথে। তৃণমূলের আশা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপক মহিলারা তাদেরই ভোট দিয়েছেন। 

    জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী পুরশুড়ার তৃণমূল প্রার্থী পার্থ হাজারি বিকালে সবুজ আবিরও মাখেন। বিজেপি প্রার্থী বিমান ঘোষ বলেন, পরিযায়ী শ্রমিক, মহিলা, চাষি প্রত্যেকেই বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। ফলে জিতবে বিজেপিই।
  • Link to this news (বর্তমান)