তৃণমূলের বুথ এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে
বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ক্যানিং মহকুমার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্যে দিয়ে ভোট মিটল। অশান্তির নিরিখে প্রথমেই আছে বাসন্তী এবং ক্যানিং পশ্চিম কেন্দ্রের নাম। ভোট চলাকালীন বুথের ভিতর থেকে তৃণমূলের এজেন্ট তথা পঞ্চায়েত উপপ্রধানকে বের করে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠল কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। অপরদিকে ভোটগ্রহণ কেমন চলছে, তা দেখতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন বাসন্তীর বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার। এছাড়াও ক্যানিং পূর্বে দিনভর এক বুথ থেকে আরেক বুথ ছুটে বেড়ালেন আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলাম। খোশ মেজাজে পাওয়া গেল এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বাহারুল ইসলামকে।
বুধবার ক্যানিং পশ্চিমের বিদ্যাধরীপল্লি ১১২ নম্বর বুথে প্রদীপ দাস নামে তৃণমূলের এক উপপ্রধান দলের প্রার্থীর বুথ এজেন্ট হয়ে কাজ করছিলেন। অভিযোগ, বেশ কয়েক ঘণ্টা ভোট হয়ে যাওয়ার পর কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েকজন জওয়ান তাঁকে বাইরে বেরিয়ে আসতে বলেন। কারণ তাঁর নামে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি বাহিনীর। প্রদীপবাবু প্রথমে রাজি না হওয়ায় তাঁকে জোর করে বাইরে বের করে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তৃণমূল প্রার্থী পরেশরাম দাস বলেন, বিনা কারণে জওয়ানরা আমাদের উপপ্রধানকে মারধর করেছে। এদিকে এই ঘটনার পর ক্ষিপ্ত এলাকার মানুষ বাহিনীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ফলে তখন ওই বুথের ভোট কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ থাকে। পরে তৃণমূল প্রার্থী এসে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে নিয়ে যান। তারপরেই শুরু হয় ভোটগ্রহণ।
অন্যদিকে, বাসন্তীর কাঁঠালবেড়িয়া ৭৬ নম্বর বুথে বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার যেতেই তাঁকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা তাঁকে ধাক্কা দেন এবং হেনস্তাও করেন। শুধু তাই নয় প্রার্থীর গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বিকাশবাবু বলেন, ভোট কেমন হচ্ছে দেখতে গিয়েই আমার উপর প্রাণঘাতী হামলা করেছেন তৃণমূলের কর্মী, সমর্থকরা। যদিও তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাসন্তী পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রাজা গাজি। তিনি বলেন, বিজেপি প্রার্থী কী বলছেন, সেটা উনিই জানেন। বুথের বাইরে যে ঘটনা ঘটছে, তার দায়িত্ব কমিশনের। মানুষ ওকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এখানে তৃণমূলের কোনো যোগ নেই। এছাড়াও তাঁর বাড়িতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর অভিযানের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাসন্তীর শিমুলতলা এলাকা। দলের কর্মী, সমর্থকরা তাদের ঘিরে জয় বাংলা স্লোগান দিতে থাকেন। পরে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন রাজা। ক্যানিং পশ্চিম কিংবা বাসন্তীতে গোলমালের খবর পাওয়া গেলেও নির্বিঘ্নেই মিটেছে মগরাহাট পূর্ব ও পশ্চিমের ভোটদান প্রক্রিয়া।