নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাইভোল্টেজ নির্বাচন হবে। হয়তো এটাই ভেবেছিলেন অনেকে। একদিকে বিদায়ী বিধায়ক আইএসএফের নৌশাদ সিদ্দিকি। যিনি নিজের বক্তৃতায় বারবার ভাঙড়ের মানুষের মন টেনেছেন। এলাকার মানুষের কাছে হয়ে উঠেছেন ‘ভাইজান’। তাঁর বিপরীতে ক্যানিং পূর্বের বিদায়ী বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসের শওকত মোল্লা। এবার আসন বদলে ভাঙড়ে।
‘উত্তপ্ত’ নির্বাচনের তকমা পাওয়া ভাঙড়ে সাপ-নেউলের লড়াইয়ের অপেক্ষা করছিলেন মানুষ। কিন্তু, সে আশায় জল ঢেলে দিলেন দু’জনেই। ক্যানিং পূর্বের ভোটার শওকত। ভোটদান বাকি রেখে সকাল ৭টায় ভাঙড়ে ঢোকেন তৃণমূল প্রার্থী। কাঁঠালিয়া, পাকাপোল, পোলেরহাট চত্বরের ১২-১৪টি ভোটকেন্দ্র ঘুরলেন শওকত। একটাও অভিযোগ নেই তাঁর। ১১টা নাগাদ ভাঙড় থানার উলটোদিকের পার্টি অফিসে আসেন শওকত। পার্টি অফিস থেকে ফোনালাপে ভাঙড়-২ ব্লকের ভোটপ্রক্রিয়ার গতিবিধি খোঁজ খবর নেন জোড়াফুল প্রার্থী। একটু জিরিয়ে নিয়ে চা-জল খেয়ে বেরিয়ে যান ভোট দিতে। একেবারে হালকা মেজাজে প্রার্থীর বক্তব্য, ‘ভাঙড়ের কোথাও অশান্তি নেই। একটাও ঘটনা ঘটেনি। এটা ভাঙড়ের মানুষের জয়।’ ভোট দিয়ে দুপুর ৩টে নাগাদ ফের ভাঙড়ে আসেন তৃণমূল প্রার্থী। আর রাস্তায় বের হননি তিনি। পার্টি অফিসের ওয়াররুমে বসে ভোট পর্যবেক্ষণ করেন। চষলেন তাঁর মুখ্য নির্বাচনি এজেন্ট। তিনি জানালেন, সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ভাঙড়ে মোট ভোট পড়েছে প্রায় ৯১ শতাংশ। যা ভাঙড়ের ইতিহাসে রেকর্ড।
অন্যদিকে, সকাল ৯টা নাগাদ ভাঙড়ে আসেন ফুরফুরা শরিফের ভোটার তথা বিদায়ী বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি। বুথে বুথে যান তিনি। আমজনতার সঙ্গে মেঠো বাক্যলাপের মাধ্যমে ভোটের দিনও কার্যত নিজের প্রচার চালালেন নৌশাদ। তাঁর কনভয়ে দেখে আশপাশের কচিকাঁচা থেকে তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে আসেন। তাঁদের নিরাশ করেননি ‘ভাইজান’। বললেন, ‘যাকে খুশি ভোট দাও। শুধু মাথায় রেখো, ভাঙড়ের শান্তি যেন অক্ষুণ্ণ থাকে। ৫ বছর ধরে এটাই আমি চেষ্টা করছি। কাগজের শিরোনামে, ভাঙড়ে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন— খবরটা দেখলেই আমার জয়।’ মোহিত হয়ে তাঁর কথা শুনলেন ভাঙড়ের একাংশ। নির্বাচন কমিশনের আইনে এটা ভোটারদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে ‘নথিভুক্ত’ হবে কি? তা অবশ্য ঠিক করবে স্বয়ং কমিশনই।