• ‘কলঙ্ক’ মুছে একপেশে-নিস্তরঙ্গ ভোট দেখল বন্দর-মেটিয়াবুরুজ, প্রত্যয়ী তৃণমূল
    বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: বোমা-গুলি-বুথ দখল এখন সবই অতীত! কলকাতা বন্দরের বাসিন্দারা যেন অতীতের ‘কলঙ্ক’ মুছতে এখন মরিয়া। একটা সময় সামান্য কলেজ ইলেকশনেও গুলি-বোমা ছিল জলভাত এই তল্লাটে। অথচ এবারের উত্তেজনাপূর্ণ বিধানসভা ভোটেও বন্দর-মেটিয়াবুরুজ কার্যত নিস্তরঙ্গ। যার ছাপ পড়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর শরীরী ভাষাতেও। 

    সকাল থেকেই কার্যত উৎসবের মেজাজে ভোট দিয়েছে বন্দর, মেটিয়াবুরুজের আম জনতা। মাঝে টিপ টিপ বৃষ্টি কিছুটা বাধাদানের চেষ্টা করলেও তা খুব একটা ছাপ ফেলতে পারেনি। ঘড়িতে তখন মেরেকেটে সকাল ১০টা।  খিদিরপুর মোড়ে কাগজের প্লেটে গরম গরম কচুড়ি-আলুর তরকারি ভাগ করে খাচ্ছেন জনা তিনেক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। তবে নামী রেস্তরাঁ থেকে ফুটপাতের স্টল—সবারই এদিন ঝাঁপ বন্ধ ছিল বন্দরে। বিকেলের পর থেকেই বন্দরের আকাশে-বাতাসে ভরে থাকা নবাবি বিরিয়ানির ঘ্রাণ এদিন অমিল ছিল।

    আর পাঁচটা দিনের মতো রাস্তায় বাস, ট্যাক্সির দেখা মেলেনি। রাস্তার মোড়ে মোড়ে হঠাৎ দরকারে পথে নামা জনতা বাসের জন্য হাপিত্যেশ করে অপেক্ষারত। দোকানপাট বন্ধ। খিদিরপুর মোড়, বাবুবাগান, বাস্কেল ব্রিজ, কোলবার্থ রোড, রামনগর মোড়, পাহাড়পুর রোড, সিজিআর রোডের মতো রাস্তা অন্যদিন যেখানে লরির, টেলারের চাপে গাড়ির চাকা গড়াতে পারে না। এদিন এই রাস্তাগুলিও গড়ের মাঠের মতো ফাঁকা। ঠিক যেন বৃষ্টিভেজা বন্‌ধের সকাল। দিনভর শাসক-বিরোধী শিবির থেকে ভোট নিয়ে তেমন কোনো গুরুতর অভিযোগ উঠেনি। তৃণমূল শিবির মার্জিন বাড়ানো নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিং কয়েকটি বুথে ধীরগতির ভোট নিয়ে মৃদু অভিযোগ করেছেন বটে। তবে তা জোরালো নয়। 

    কলকাতা বন্দরের বেশিরভাগ বুথই ঘিঞ্জি সরু গলিতে। বুথের সামনে অপ্রশস্ত একফালি জায়গা। ভোটারদের ভি঩ড়ে ঠাঁই নেই দশা। রোদ-বৃষ্টির হাত থেকে  মাথা বাঁচাতে ভোটারদের ভরসা, মাথার উপরের এক টুকরো পলিথিনের আচ্ছাদন। এরমাঝে ভোটের দিন সকালের হঠাৎ বৃষ্টি যেন মিলিয়ে দিল বন্দরের সব সম্প্রদায়ের ভোটারদের। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভোট দিলেন  সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বন্দরের আম জনতা। হিজাব-শাড়ি-চুড়িদার থেকে জিনস—ভোটের লাইনে এদিন সব মিলেমিশে একাকার। অবিশ্বাসের এই সময়ে এটাই-বা কম কী!
  • Link to this news (বর্তমান)