বাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে সরব লাভলি মৈত্র
বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা থেকে পঞ্চায়েত, সর্বত্র গোটা বাংলার মতো ভোটাররা পথে নেমে, লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলেন। নির্বাচন কমিশনের হিসাব বলছে, বিকেল ৫টা পর্যন্ত সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে ৮৭ ও সোনারপুর উত্তর কেন্দ্রে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এরই মধ্যে সোনারপুর দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী লাভলি মৈত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভব্য আচরণের অভিযোগ তোলেন। আবার সোনারপুর উত্তরে জগদীপোতা প্রাইমারি স্কুলের সামনে বিজেপি ও তৃণমূলের বচসা বাধে বলে খবর।
লাভলির অভিযোগ, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির নির্দেশ মতো কাজ করছে। বিজেপি নারী বিদ্বেষী দল। আমি ওই ১৪৩ নম্বর বুথের ভোটার। পরিচয় পত্র দেখানোর পরেও জওয়ান আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তিনি আমাকে ধাওয়া করে বুথ পর্যন্ত যান।’ অন্যদিকে, সোনারপুর উত্তর কেন্দ্রের বোড়াল হাইস্কুল, বরদাপ্রসাদ হাইস্কুলে সকাল থেকে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা যায়। সোনারপুর উত্তরের সিপিএম প্রার্থী মোনালিসা সিনহা এদিন দুপুরের দিকে গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন একটি বুথে ধীর গতিতে ভোটদান প্রক্রিয়ার অভিযোগ এনে কমিশনে নালিশ করেন। তিনি বলেন, ‘বনহুগলি ২, জয়কৃষ্ণপুর, বোড়ালের কয়েকটি বুথে ধীর গতিতে ভোট হচ্ছে।’ সোনারপুর উত্তরের ১৩ নম্বর বুথে ফলস ভোটের অভিযোগে উত্তেজনা ছড়ায়। সেখানকার বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ধর এলাকাতে গেলে তাঁকে ঘিরে কটূক্তি শুরু হয় বলে অভিযোগ।
সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ও বিভিন্ন বুথে পরিদর্শন করেন। তিনি কিছু এলাকায় অশান্তি ও ইভিএম খারাপের অভিযোগ তোলেন। যদিও এই বিপুল পরিমাণ ভোটদানকে এসআইআরের বিরুদ্ধে ‘প্রতিবাদ’-এর ভোট বলেই অভিহিত করতে চাইলেন সোনারপুর দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী লাভলি মৈত্র। সোনারপুর উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী ফিরদৌসী বেগমও এদিন সকাল থেকেই তাঁর এলাকার বিভিন্ন বুথ পরিদর্শন করেন। এদিন ভোটকে কেন্দ্র করে সোনারপুর কার্যত ‘লকডাউন’-এর চেহারা নিয়েছিল। ২০ বছর ধরে শয্যাসায়ী ৮৩ বছরের বৃদ্ধাকেও ভোট দিতে আসতে দেখা যায়। আবার সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে কোদালিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের কাছে সিপিএম, বিজেপি, তৃণমূলের বুথ ক্যাম্প একেবারে পাশাপাশি নির্বিঘ্নে সহাবস্থান করতে দেখা গিয়েছে।