ভিড় দেখলেই লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করল কেন্দ্রীয় বাহিনী
বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, ডায়মন্ডহারবার: ডায়মন্ডহারবার বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটদানকে ঘিরে বুধবার নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গোটা ডায়মন্ডহারবার রোড ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর দখলে। তাদের গাড়িতেই ঠাসা ছিল মহাসড়ক। ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের ভিতরে এবং বাইরে ছিল পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। অবাঞ্ছিত কাউকে দেখামাত্র লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করেছে তারা। চারদিকে ছিল ভারী বুটের শব্দ।
এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি সক্রিয়তার কারণে ডায়মন্ডহারবারের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিতান্ত প্রয়োজন না হলে মানুষ বাড়ির বাইরে বের হননি। দেখে মনে হয়েছে, অঘোষিত কার্ফু চলছে শহরে। ডায়মন্ডহারবারের বিভিন্ন প্রান্তে আনাজপাতির বাজার খোলা থাকলেও ক্রেতার অভাবে বিক্রিবাটা কম। ওই দোকানির কথায়, ‘বেচাকেনা নেই, এদিন দোকান না খুললেই ভালো হতো।’ রাস্তার দু’ধারে সমস্ত দোকানপাট ছিল বন্ধ। রাস্তাতেও গাড়ি তেমন চোখে পড়েনি। ট্রেকার, টোটো, অটো সহ যে দু’-একটি গাড়ি দেখা গিয়েছে, তাতে ছিল বাদুড়ঝোলা ভিড়।
ডায়মন্ডহারবার স্টেশনের কাছে চার রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে কয়েকজন বলেন, ‘দীর্ঘ সময় বাদে যাও বা একটা টোটো মিলেছে, সে আবার দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া হেঁকেছে।’ এটাই ছিল এদিন পরিবহণের চিত্র। ফলে সাধারণ মানুষকে চূড়ান্ত হয়রানির মধ্যে পড়তে হয়েছে। রাস্তার ধারে ভাতের হোটেল ছিল সব বন্ধ। স্থানীয় মানুষ বলেন, অন্যদিনের তুলনায় এদিন ডায়মন্ডহারবার ফেরিঘাটে লোকসংখ্যা ছিল একেবারে কম। পুর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে কড়া নজরদারি চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। কোথাও জনা পাঁচেক লোক জড়ো হলেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা লাঠি উঁচিয়ে সেই জটলা সরিয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে নিরাপত্তার বহর দেখে ডায়মন্ডহারবার বাসিন্দাদের অনেকেরই বক্তব্য, ‘এর আগে বহু ভোট তাঁরা এখানে দেখেছেন। কিন্তু নিরাপত্তার এমন বাড়াবাড়ি কখনও দেখেননি। এই ভোট সারা জীবন মনে থাকবে।’ তৃণমূল প্রার্থী পান্নালাল হালদার বলেন, ‘মানুষের জন্য কাজ করেছি। মানুষ দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন। এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল নিশ্চিতভাবে জিতবে।’