• প্রার্থীরা দিনভর চরকিপাক খেলেন কেন্দ্রে, নীরবে ভোট করাল ঘাসফুল
    বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: স্বাভাবিক ছন্দেই ভোট করাল তৃণমূল কংগ্রেস। তেল দেওয়া মাকুর মতো কাজ করল ঘাসফুল শিবিরের ভোট মেশিনারি। শুধু প্রকাশ্যে তার চলাচল চোখে পড়ল না। প্রার্থীরা দিনভর ঘুরে বেড়ালেন। সমস্ত নজর থাকল সেদিকেই। সমান্তরালে কোথাও ঘরে বসে কোথাও রাস্তায় নেমে সুচারুভাবে কাজ করে গেলেন তৃণমূলের নীচুতলার কর্মীরা। চণ্ডীতলা থেকে চুঁচুড়া, সিঙ্গুর থেকে সপ্তগ্রাম, নিঃশব্দ বিপ্লব ঘটিয়েছে শাসকের ভোট-কৌশল। ভয়-ভীতি নয়, শুধু জনসংযোগ আর সঠিক পরিকল্পনার সুষ্ঠু রূপায়ণে নীরবে ভোট নিয়ন্ত্রণ করেছে শাসক শিবির।

    ভোট গড়ানোর কিছু সময় পরেই বুক বাজিয়ে সপ্তগ্রামের এক বিজেপি নেতা বলেছিলেন, তৃণমূলের জারিজুরি সব শেষ। নির্বাচন কমিশন ওদের মেশিনারি পুরো অকেজো করে দিয়েছে। এবার বাড়ি বাড়ি থেকে লোক নিয়ে আসার খেলও খতম। বিষয়টি নিয়ে তত্ত্বতালাশ করতেই জানা গেল, দিব্য বাড়ি বাড়ি থেকে লোক আনছে তৃণমূল। শুধু টোটো বা বাইকে পতাকা এবার লাগানো হয়নি। আর একটি টোটোতে দু’জনের বেশি লোক চলাচল করছে না। ঘটনা কি ঠিক? প্রশ্ন করতেই মুচকি হাসলেন এক তৃণমূল নেতা। বললেন, প্রতিদিন নাগরিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে। সেই পথ কে বন্ধ করবে? তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান অসীমা পাত্র বলেন, মানুষ তৃণমূলকে ভালোবাসে। সেই রসায়নটাই কমিশন রপ্ত করতে পারেনি। সেটাই সাফল্যের সমীকরণ। 

    তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতেই সপ্তগ্রামের একগুচ্ছ তৃণমূল সমর্থককে এলাকাছাড়া করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিছু সমর্থককে আটক করে থানাতেও নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে শর্তাধীন মুক্তি দেওয়া হয়েছে। চুঁচুড়ায় সকাল সকাল কেন্দ্রীয় বাহিনী হম্বিতম্বি করেছে। ক্যাম্প ভেঙে দিয়েছে। মগরার ২৮৪ নম্বর বুথ থেকে বহুদূরের একটি ক্যাম্প তুলে দিয়েছে বাহিনী। কিন্তু মগরা থেকে সপ্তগ্রাম, সিঙ্গুর, চুঁচুড়ায় সমান্তরালে কাজ করে গিয়েছে শাসকদল। গত কয়েকবারের তুলনায় তা করেছে একটু নীরবে। তফাত বলতে এটুকুই। 
  • Link to this news (বর্তমান)