হাওড়া গ্রামীণে নির্বাচন নির্বিঘ্নেই তাল কাটল কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি সক্রিয়তা
বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
পাপ্পা গুহ, উলুবেড়িয়া: বুধবার হাওড়া গ্রামীণ জেলায় দু’একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই মিটল দ্বিতীয় দফার ভোট। তবে এদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের বিরুদ্ধে অতি সক্রিয়তার অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও বিজেপি কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
এদিন প্রায় শুনশান ছিল রাস্তাঘাট। বন্ধ ছিল দোকানপাট। এবার ভোট উৎসবে এমনই অন্য চিত্র দেখল গ্রাম থেকে শহর। এদিন সকাল থেকে উলুবেড়িয়া থেকে উদয়নারায়ণপুর, বাগনান থেকে শ্যামপুর, আমতা থেকে পাঁচলা– প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকালে বৃষ্টিতে ভোটারদের কিছুটা সমস্যা হলেও পরে বেলায় আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় প্রতিটি বুথের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। তবে তাল কাটে ইভিএম। একাধিক বুথে ইভিএম খারাপ হয়ে যাওয়ায় সেই বুথগুলিতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সাময়িক বন্ধ থাকে।
অন্যদিকে এদিন জেলা জুড়ে রাজনৈতিক দলের ক্যাম্প তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। এদিন সকালে উদয়নারায়ণপুরের পাঁচারুলে গিয়ে দেখা গেল দলীয় কার্যালয়ে বসে আছেন উদয়নারায়ণপুরের তৃণমূল প্রার্থী সমীর পাঁজা। ভোট কেমন হচ্ছে এই প্রশ্নে সমীর পাঁজা জানান, ভোটাররা উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিচ্ছেন। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি সক্রিয়তার কারণে মানুষের মনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
পাঁচারুল থেকে বেরিয়ে আমতা বিধানসভা এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, প্রতিটি বুথের সামনে ভোটারদের লম্বা লাইন। শুনশান রাস্তা। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। শ্যামপুরেও এক চিত্র। ভোট কেমন হচ্ছে, এই প্রসঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী নদেবাসী জানা জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বিভিন্ন জায়গায় আমাদের কর্মীদের উপর লাঠিচার্জ করেছে। আতঙ্কে অনেকেই বাইরে বের হচ্ছেন না। শ্যামপুর থেকে বেরিয়ে উলুবেড়িয়া দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের গৌরীপুরে দেখা হল তৃণমূল প্রার্থী পুলক রায়ের সঙ্গে। ভোট দিয়ে বেরিয়ে তিনিও অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে। এমনকী তৃণমুল কর্মীদের মারধরও করেছে তারা।