অমিত চৌধুরী, তারকেশ্বর: কেন্দ্রীয় বাহিনীর আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পেলেন না ক্যান্সার আক্রান্ত বৃদ্ধা ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি। বুধবার তারকেশ্বর বিধানসভার ভোটগ্রহণ কেন্দ্র অধরমণি দত্ত বিদ্যামন্দিরে ভোটারদের রোদের মধ্যে লম্বা লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ তোলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রামেন্দু সিংহরায়। তিনি জানান, স্কুলের ভিতরে বিস্তীর্ণ জায়গা রয়েছে যেখানে বয়স্ক ও মহিলারা ভালোভাবে দাঁড়াতে পারেন। কিন্তু সেখানে ভোটারদের না দাঁড় করিয়ে মাঠে রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন আমার ইলেকশন এজেন্ট দিব্যেন্দু বেরা । তখন কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্তারা জানতে চান, তিনি কোন দলের ইলেকশন এজেন্ট। তৃণমূল কংগ্রেসের নাম শুনেই অতর্কিতে লাঠিচার্জ শুরু করে তারা। এই আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাননি ক্যান্সার এবং হৃদরোগে আক্রান্তরাও।
স্কুলের পাশেই বাড়ি ৬৪ বছরের বৃদ্ধা জগদ্ধাত্রী চট্টোপাধ্যায়ের। তিনি জানান, বাড়ির সামনে পরিবারের সবাই দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। হঠাৎ কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে মারধর শুরু করে। ক্যান্সার রোগী হওয়া সত্ত্বেও আমাকে চড় মারে। অতর্কিত এই চড়ে আমি প্রায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ি। আমার ভাই গোবিন্দসদয় চট্টোপাধ্যায় কিছুদিন আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এরপর তাঁর অস্ত্রোপচারও হয়েছে। তাঁর উপরেও লাঠিচার্জ হয়। বাড়ির বৌমার কাপড় টেনে ধরে লাঠি চালায়। সাধারণ মানুষের উপর এরকম অত্যাচারের বিচার চাই। যদিও পাল্টা বিজেপি প্রার্থী সন্তু পানের দাবি, জমায়েত হটাতে লাঠি চার্জ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু মহিলারাও আক্রান্ত হলেন কেন? উত্তরে তিনি বলেন, জমায়েত করলে এরকম হতেই পারে।
তবে উত্তেজনার মাঝে ধনেখালি বিধানসভা কেন্দ্রের ১৩১ নম্বর বুথে গিয়ে ভোটাররা বেশ অবাক হয়েছেন। মডেল বুথ কেন্দ্র এই ১৩১ নম্বর অনন্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভোট দিতে ঢোকার সময় শোনা যাচ্ছে সানাইয়ের সুর। ভোটারদের দেওয়া হচ্ছে একটি করে গোলাপ ফুল। গেটে প্রবেশ করার পর ভোটারদের খাওয়ানো হচ্ছে লস্যি ও কফি। নির্বাচন কমিশনের এই ধরনের উদ্যোগ দেখে অবাক হয়েছেন ভোটাররা।
এদিকে, হরিপাল ও জাঙ্গিপাড়ায় ইভিএম খারাপ থাকায় বেশ কয়েকটি বুথে ভোটগ্রহণ দেরিতে শুরু হয়। এমন বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনা ছাড়া মোটের উপর শান্তিপূর্ণ জাঙ্গিপাড়া, হরিপাল, তারকেশ্বর ও ধনেখালির ভোট।