একাধিক বুথে দিনভর ইভিএম বিকল শ্লথ গতিতে ভোটদানের অভিযোগ
বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: দক্ষিণ হাওড়া, সাঁকরাইল, ডোমজুড় ও জগৎবল্লভপুর— হাওড়ার এই চার বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের দিন ইভিএম বিকলকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হল সাধারণ ভোটারদের। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একাধিক বুথে প্রযুক্তিগত সমস্যার জেরে ব্যাহত হয় ভোটগ্রহণের কাজ। পাশাপাশি, দু’টি জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করা ও ভয় দেখানোর অভিযোগ তোলে তৃণমূল।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে দক্ষিণ হাওড়ার একটি বুথে, সাঁকরাইলের ১৩টি বুথে, ডোমজুড়ের ১৭টি বুথে এবং জগৎবল্লভপুরের ৬টি বুথে ইভিএম বিকল থাকায় নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণ শুরু করা যায়নি। বহু ক্ষেত্রে মেশিন বদল করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হলেও, বেশ কিছু বুথে দিনভর বারবার মেশিন বিকলের অভিযোগ ওঠে। দক্ষিণ হাওড়ার দু’টি বুথে আলোর সমস্যার জেরে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকে ভোটগ্রহণ। চার কেন্দ্রের মধ্যে ডোমজুড়েই সবচেয়ে বেশি ইভিএম বিকলের অভিযোগ সামনে এসেছে। বাঁকড়া-৩ নম্বর পঞ্চায়েতের চারটি বুথে বিকাল ৫টার পরেও ইভিএম বিকল থাকায় ভোটারদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে তীব্র ভোগান্তির শিকার হন কয়েকশো বাসিন্দা।
এদিকে, ডোমজুড় ও জগৎবল্লভপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে তৃণমূল নেতৃত্ব। অভিযোগ, অতিসক্রিয়তা ও পক্ষপাতিত্বের পাশাপাশি ভোটারদের প্রভাবিত করার ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূলের দাবি, এদিন সকালে বাঁকড়া-২ নম্বর পঞ্চায়েতের ১০৫ ও ১২৩ নম্বর বুথের বাইরে লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েকজন জওয়ান প্রভাবিত করেন। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিকালের দিকে জগৎবল্লভপুরের বাকুল এলাকার একটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে লাইন সুশৃঙ্খল করার নামে ভোটারদের দিকে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পোলিং স্টেশনের আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ধীরগতিতে ভোট প্রক্রিয়া চালানোর অভিযোগ জানান সাধারণ ভোটাররা। সাঁকরাইলের একাধিক কেন্দ্রে দেখা যায়, একটি কেন্দ্রে তিন থেকে পাঁচ, এমনকি সাতটি বুথ থাকা সত্ত্বেও বাইরে মাত্র একটি লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে ধীরগতিতে ভোটারদের ভিতরে ঢোকানো হচ্ছিল। সকালের দিকে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা বৃষ্টির মধ্যেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বহু মানুষকে, যার জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অনেকেই। পরে ভোটারদের বিক্ষোভের মুখে লাইনের সংখ্যা বাড়াতে বাধ্য হয় কমিশন। তবে সব মিলিয়ে দিনভর বিক্ষিপ্ত সমস্যা ও অভিযোগ থাকলেও চার বিধানসভা কেন্দ্রেই বড়সড় অশান্তির কোনো ঘটনা ঘটেনি।