• ‘উড়িয়ে জিতব’ গেরুয়া ‘গুন্ডামি’র পরও প্রত্যয়ী মমতা
    বর্তমান | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • রাহুল চক্রবর্তী, ভবানীপুর: শিশু, মহিলা, বৃদ্ধ—বাদ যায়নি কেউ। যে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’র সূচনা হয়েছিল মঙ্গলবার রাতে, তারই রেশ ভোটের সকাল দেখল ভবানীপুরে। স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রে। কিন্তু তারপরও পিছু হটল না লাইন। এতটুকু ভাটা পড়ল না উৎসাহে। প্রতিবাদে। সেই সূত্র ধরেই বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা, ‘বিজেপির কথামতো কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুন্ডামির পরেও আমরা ২০০ পার করব। বিজেপির সব চক্রান্ত উড়িয়ে জিতব।’

    ভোটের আগের রাত থেকেই বাহিনীর অত্যাচারের শুরু। প্রতি মুহূর্তের খবর আসতে থাকে তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছে। সারা রাত জেগে ছিলেন তিনি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও করেন। কিন্তু ভোটের সকালটা যেন আরও মারাত্মক হয়ে উঠল। সকাল ৮টার আগেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন মমতা। প্রথমে যান চেতলায়। ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে দেখা করেন। তারপর ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অসীম বসুর বাড়ি। মমতার বক্তব্য, ‘অসীম কাউন্সিলার। তাঁর বাড়ি গিয়ে রাত ২টোর সময় সিআরপিএফ আক্রমণ করেছে। সেই সময় ও বাড়ি ছিল না। বাচ্চাকে নিয়ে ওর স্ত্রী ছিলেন। সেখানে বাড়ির লোকদের মারধর, হেনস্তা করেছে ওরা। হুমকি দিয়েছে, বাবাই যেন পার্টির কাজ না করে। গণতন্ত্রের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে ওরা।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘কী করেনি ওরা? আমার পাড়ায় ঢুকে মহিলাদের মারধর করেছে। সাধারণ মানুষকে ভোটদানে বাধা দিয়েছে। শিশু, প্রবীণদের মেরেছে। আবার কোথাও বুথ ক্যাম্প ভেঙে দিয়েছে। বুথে এজেন্টদের বসতে দেয়নি। লুঙ্গি পরে এসেছিল বলে ফেরত পাঠিয়েছে। একজন মারাও গিয়েছেন। অবজারভাররা থানায় গিয়ে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করছেন। এছাড়াও ভোট প্রক্রিয়ার গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে সব জায়গায়।’ মমতার কথায়, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী গুন্ডামি চালিয়েছে। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহের নির্দেশেই সবটা হয়েছে। ওদের ভোটার নেই। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে রিগিংয়ের চেষ্টা!’ এরপরও বাংলার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটদান দেখে তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রত্যয়ী বার্তা, ‘২০০ পার করে আমরা এগিয়ে যাব। সংখ্যাটা কোথায় যাবে, সেটা মানুষই ঠিক করবেন।’ ৪টে ১৫ মিনিটে ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার পর জয় সূচক ‘ভিক্ট্রি’ চিহ্ন দেখিয়ে দেন মমতা। 

    তৃণমূলের সাফ অভিযোগ, যেখানে গেরুয়া বুথ ক্যাম্প খুঁজে পাওয়াই মুশকিল, সেখানে দিনভর বিজেপি প্রার্থী নানাভাবে উত্তেজনা তৈরি করছিলেন। সব থেকে বড়ো ঘটনা ঘটে বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের জয়হিন্দ ভবনের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে। সেখানে গিয়ে বিজেপি প্রার্থী অপ্রীতিকর কোনো শব্দ ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। তখন সাধারণ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তোলেন। এরপরই বহিরাগত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে এলাকায় দৌড়ে বেড়ান তিনি। ফোন করেন সেক্টর অফিসারকে। তাঁর নির্দেশে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী ছুটে আসে। অভিযোগ, তারা এলোপাথাড়ি লাঠি চালিয়েছে সাধারণের উপর। আহত হয়েছেন সত্তরোর্ধ্ব সন্ধ্যা সর্দার। ৩৫ বছরের এক যুবকের কনুইতে চোট। এই দেখেই গোবিন্দ ঘোষাল রোডের মহিলারা বেরিয়ে আসেন ঘর থেকে। রুখে দাঁড়ান। তাঁদের বক্তব্য, ‘আমাদের রোহিঙ্গা-বাংলাদেশি বলছে!’ স্থানীয় বাসিন্দা মন্টু পালের অভিযোগ, ‘বাহিনীর এমন অত্যাচার আগে দেখিনি।’
  • Link to this news (বর্তমান)