• ভোলবদল ভাঙড়-ক্যানিংয়ে! নেই বোমা-গুলি-রক্তারক্তি
    এই সময় | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • প্রশান্ত ঘোষ, ভাঙড়

    শেষ কবে এমন শান্তির ভোট দেখেছে ভাঙড়? লাইন দিয়ে বুথে বসে সব দলের এজেন্ট, দল বেঁধে ভোট দিতে যাচ্ছেন ভোটাররা, নেই বোমা–গুলির শব্দ! ক্যানিং পূর্বেই বা এমন বিরল ছবি কবে দেখা গিয়েছে?

    কিন্তু বুধবার রাজ্যের দ্বিতীয় দফার ভোটে সব মিলিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলো ভাঙড় এবং ক্যানিং পূর্বে। এতদিন ভোট মানেই বোমার শব্দ, বন্দুকের আওয়াজ যে এলাকায় দস্তুর ছিল, সেখানেই রক্তপাতহীন ভোট করিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও পুলিশ। বিনা বাধায় নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে খুশি দুই বিধানসভার পাঁচ লক্ষাধিক ভোটার। গুলি, বোমা তো দূরের কথা, কাউকে মারধর, মাথা ফাটানোর মতো অভিযোগও তোলেনি কোনও পক্ষ। এমনকী কোথাও বুথ জ্যাম, রিগিং বা ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ পর্যন্ত ওঠেনি। স্বতঃস্ফূর্ত ভোট দেখে শাসক–বিরোধী সব পক্ষের দাবি, শেষ হাসি তাদেরই।

    সূত্রের খবর, ইসির গাইডলাইন এবং পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর 'দাবাং' মেজাজের জেরে এ দিন ভাঙড়–সহ অন্যান্য বিধানসভায় সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হয়েছে। মঙ্গলবার রাতভর পুলিশি অভিযান ও ধরপাকড় চলেছে ভাঙড়ের সাতটি থানা এলাকায়। সারা রাত বিভিন্ন গ্রাম ও দুষ্কৃতীদের বাড়িতে চলেছে তল্লাশি অভিযান।

    বুধবার সকাল থেকে ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালায় পুলিশ। কলকাতা পুলিশ যে ৭০টি ড্রোন ভাড়া করেছিল, তার মধ্যে পাঁচটি আনা হয় ভাঙড় ডিভিশনে। এতে এফটিভি বা ফার্স্ট পার্সন ভিউ ড্রোনও ছিল। যা দিয়ে বুথে নজরদারি এবং এক কিলোমিটার দূর থেকে আশপাশের মাঠ, আমবাগান, পাটখেত, কলাবাগানে নজরদারি চলেছে। কোথাও গ্রামবাসীদের পাঁচ মিনিটের জন্যও জড়ো হতে দেয়নি পুলিশ।

    এ বারের ভোটে মোটরবাইকে চড়ে ভাঙড়ের অলিগলি চষে ফেলেছে কুইক রেসপন্স টিম। কোথাও কলকাতা পুলিশের সাহায্য নিয়ে, কোথাও বাহিনী নিজেদের মতো করে অলিগলি, মেঠো রাস্তা, মেছো ভেড়ির পাড় দাপিয়ে বেরিয়েছে সারা দিন। ফলে বুথ থেকে একশো মিটার দূরে তো বটেই, পাঁচশো মিটার বা এক কিলোমিটার দূরেও অবৈধ জমায়েত করার সাহস দেখায়নি কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য।

    পুলিশ সূত্রে খবর, গত এক সপ্তাহে প্রতিরোধকমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভাঙড়ের বিভিন্ন থানা এলাকায় ৬০ জন দাগি আসামিকে গ্রেপ্তারির পাশাপাশি শাসক ও সব বিরোধী দলের নেতাদের হুঁশিয়ারি দেয় পুলিশ। বলা হয়, কোনও গ্রামে বা পাড়ায় অশান্তি, বোমাবাজি হলে অভিযুক্ত ছাড়াও সেই পাড়ার নেতাকে গারদে পোরা হবে। ফলে 'দাদা'কে জেতানোর জন্য ঝুঁকি নিয়ে কোনও পক্ষই আর অশান্তি পাকানোর দুঃসাহস দেখায়নি।

    ভাঙড়ের ভোট নিয়ে খুশি তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা, আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকি দু'জনেই। শওকত বলেন, 'কিছু কিছু জায়গায় আইএসএফ অশান্তি করলেও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। মানুষ দু'হাত তুলে আশীর্বাদ করেছে আমাদের।' নওশাদের প্রতিক্রিয়া, 'পাঁচ বছর ধরে ভাঙড়ের মানুষকে এটাই বুঝিয়ে এসেছি যে অশান্তি করা যাবে না। সেটাই হয়েছে।'

    বুধবার সকালে অবশ্য আইএসএফের এজেন্টদের বসতে না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ক্যানিং পূর্বের বেশ কিছু বুথে। ওই কেন্দ্রের আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলাম নিজে বুথে গিয়ে এজেন্টদের বসান। তাঁর কথায়, 'বেশ কিছু বুথে এজেন্টকে বসতে দেওয়া হয়নি। একটি বুথে দু'বার ইভিএমের বাটন ভেঙে দেওয়া হয়। তৃণমূল অনেক রকম

    নোংরামি করলেও আইএসএফ জিতবে।' জবাবে তৃণমূল প্রার্থী বাহারুল ইসলাম বলেন, 'আরাবুল সাহেব স্বপ্ন দেখতে থাকুন, আমাদের জয় সময়ের অপেক্ষা।'

  • Link to this news (এই সময়)