এই সময়, ব্যারাকপুর: কোথাও বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, কোথাও বিজেপি প্রার্থী ও তৃণমূল কাউন্সিলারের বচসা, মারামারি। কোথাও ইভিএমে কালি দেওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তা। সব মিলিয়ে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে ভোটের গল্প বলতে এটুকুই! এমন নিস্তরঙ্গ, ঘটনাবিহীন ভোট কয়েক দশক পর দেখল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল। ছোটখাটো কয়েকটি গোলমাল ছাড়া কার্যত উৎসবের মেজাজেই রক্তপাতহীন ভোট হলো বরাহনগর থেকে বীজপুর পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি বিধানসভা এলাকায়। ব্যারাকপুরের অধিকাংশ কেন্দ্রেই ভোট পড়েছে ৯০ শতাংশের উপরে। যা নিয়ে উৎসাহিত শাসক–বিরোধী দুই শিবির।
ব্যারাকপুরের অধিকাংশ বিধানসভা কেন্দ্রের বুথগুলিতে এজেন্ট দিতে পারেনি বিরোধী শিবির। তৃণমূলের দাবি, ৫০ শতাংশের বেশি বুথে এজেন্ট দিতে পারেনি বিজেপি। সিপিএমও বেশ কিছু বুথে এজেন্ট দিতে পারেনি। এর মধ্যেই জগদ্দলের একটি বুথের একশো মিটারের মধ্যে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়। জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার অভিযোগ জানান, তৃণমূলের প্রার্থী সোমনাথ শ্যামের সঙ্গী দীপক লাহিড়ী অস্ত্র নিয়ে ঘুরছেন। তাঁর দাবি, পুলিশকে বললেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সকালে ভোট চলাকালীন কাঁচরাপাড়া পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে তৃণমূল কাউন্সিলারের দাঁড়িয়ে থাকা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থীর উপস্থিতিতেই ওই কাউন্সিলারের ঘড়ি ও চশমা ছিনতাই হয়। তাঁকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ তৃণমূলের। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সময়ে হালিশহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বুথে মহিলাদের মারধরের অভিযোগ ওঠে হালিশহর থানার আইসি–র বিরুদ্ধে। হালিশহরে তৃণমূলের একটি বুথ ক্যাম্প কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ।
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে নজরকাড়া বিধানসভা কেন্দ্র ছিল নোয়াপাড়া। এ দিন স্পর্শকাতর বুথগুলি পরিদর্শনে করেন বিএসএফের ডিজি। যদিও বেলার দিকে নোয়াপাড়ার উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার একটি বুথের বাইরে বুথ ক্যাম্পে বসে থাকা তৃণমূল কাউন্সিলার সঞ্জীব সিংকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তির বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে। ব্যারাকপুর বিধানসভায় তৃণমূল টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চাইছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচি। তবে ব্যারাকপুরের সাধারণ ভোটারদের দাবি, এমন শান্তিপূর্ণ ভোট তাঁরা স্মরণাতীতকালে দেখেননি। ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়ায় যেখানে ভোট মানেই বোমা-গুলির লড়াই, সেখানে এ বার বুথে বুথে লম্বা লাইন। মাঝে একবার কয়েক পশলা বৃষ্টিও হয়। কিন্তু ভোটদানে বাধা পড়েনি।