লাল ফিরছে কি না জানা নেই! কিন্তু হাল ফিরেছে সিপিএমের। ডিম-ভাত থেকে একধাপ উপরে উঠে ভোটের দিন লাঞ্চে কর্মীদের ব্রিগেডের আয়োজন ছিল ঢালাও চিকেন-ভাত। ভোটের ডিউটির ফাঁকেই মুরগির ঝোল-ভাতে পেট ভরাল কমরেডরা। শাসক তৃণমূল অবশ্য কিছু জায়গায় বিরিয়ানি করলেও তারাও জোর দিয়েছিল চিকেন আর জিরা রাইসেই। কংগ্রেস কিছুটা ব্যতিক্রম। তাঁদের এজেন্ট ও কর্মীদের লাঞ্চের মেনুতে কচি পাঁঠার ঝোল-ভাত। প্যাকেটে ছিল আবার রসগোল্লাও। অন্যদিকে, মুরগির ঝোলেই লাঞ্চ বানাল বিজেপি। ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়লেও পাল্লা ভারী রেখে ভোটের ময়দানে এবার জারি রইল ‘চিকেন পলিটিক্স’।
সকাল থেকে মেঘলা আবহাওয়া ও হালকা বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরম ছিলই। আর কয়েকদিন ধরে চলা তপ্ত আবহাওয়ার জন্য ভোটের মেনুতেও এবার বদল এনেছিল রাজনৈতিক দলগুলি। রাজনীতির ময়দানে উত্তাপের কোনও খামতি ছিল না। ভোটের ময়দানে শেষ হাসি কে হাসবেন, তা জানা যাবে ৪ মে। কিন্তু তার আগে কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে ‘পেটপুজোয়’ কোনও খামতি রাখতে চায়নি রাজনৈতিক দলগুলি। বুধবার ভোটের দিন কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে তল্লাটে তল্লাটে এলাহি খাবারের আয়োজন করেছে সব পক্ষই। তবে এ বারের মেনুতে বড়সড় বদল এনেছে গরম। কর্মীদের আবদার সামলাতে গিয়ে নেতাদের পকেটে টান পড়লেও স্বাস্থ্য সচেতনতায় অনেকেই মেনু থেকে বাদ দিয়েছে বিরিয়ানিকে। তার বদলে জায়গা করে নিয়েছে চিকেন ও মাটনের ঝোল। শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কর্মী অভিষেক শর্মা জানালেন, “অনেকের আবদার ছিল দেশি মুরগি আনা হোক। কিন্তু বাজেটে কুলোয়নি। তাই ব্রয়লার মুরগির ঝোল আর ভাত।”
বালিগঞ্জের বিজেপি নেতা নীতিন প্যাটেল জানালেন, দু’রকমের লাঞ্চ ছিল। চিলি চিকেনের সঙ্গে চাইনিজ ফ্রায়েড রাইস আর চিকেন বিরিয়ানি। হাওড়ার দাশনগরের বিজেপির এক মণ্ডল নেতা মৃত্যুঞ্জয় নাথ বললেন, “আমরা লাঞ্চে করেছিলাম জিরা রাইস আর চিকেন। কংগ্রেসের রাজ্যনেতা শুভ্রজ্যোতি দাসের উদ্যোগে দলের কর্মীদের জন্য লাঞ্চে খাসির মাংসের ঝোল, ভাত, ডাল-সবজি আর রসগোল্লার ব্যবস্থা করেছিল। কংগ্রেস কর্মী সুদীপ সিংহ জানালেন, সকালের ব্রেকফাস্টে কচুরি-আলুর দমও রাখা হয়েছিল। দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা ভবানীপুরের প্রার্থী প্রদীপ প্রসাদ আবার বুথে বুথে কর্মীদের জন্য চিকেন বিরিয়ানির ব্যবস্থা করেছিলেন। আবার সিপিএমের উত্তর-পশ্চিম হাওড়া এরিয়া কমিটির তরফে এবার মুরগির মাংসের ঝোল আর ভাত। সকালে কেক-বিস্কুট। এবার সিপিএমও লাঞ্চে কমরেডদের জন্য ঢালাও চিকেন-ভাতের ব্যবস্থা করে রীতিমতো চমক দিয়েছে। সিপিএমের কর্মীদের মতে, ডিম-ভাতের বদলে চিকেন-ভাত হল, সেটা বড় কথা নয়। বিলাসিতা নয়, লড়াইয়ের ময়দানে টিকে থাকাই আসল কথা। অন্যদিকে, তৃণমূল কর্মী সুমন পোড়িয়ার কথায়, “গরম যে হারে বাড়ছে, তাতে বিরিয়ানি খেলে শারীরিক সমস্যা হতে পারে। তাই মুরগির হালকা ঝোল আর ভাতই সেরা।”
উত্তর কলকাতায় বিজেপির তরফে আবার মেনু ছিল নানপুরি, ছোলার ডাল আর বোঁদের মেলবন্ধন। এসইউসি অবশ্য কিছুটা ব্যতিক্রম। এসইউসি-র সমস্ত ক্যাম্পে রুটিন মেনে কর্মীরা ছিলেন। সেখানে সকালের খাবার বাপুজি কেক, আর একটা কলা। কোথাও সঙ্গে ডিমসিদ্ধ। আর দুপুরের খাবারে কোথাও ভাত-ডাল-সবজি, কোথাও ডিমের ঝোল আর ভাত। কোথাও আলুভাজা-রুটি। অনেক ক্ষেত্রেই পার্টি-কর্মী বা সমর্থকদের বাড়ি থেকে কিছু কিছু খাবার পাঠানো হয়েছে।
মুরগির মাংসের দামও অবশ্য ৩০টাকা বেড়ে গিয়েছে ভোটের বাজারে। ক’দিন আগেও ছিল ২৩০ টাকা কেজি। আর বুধবার সকালে সেই ব্রয়লার চিকেনের কেজি ছিল কোথাও ২৬০, কোথাও ২৭০ টাকা। তবে তা হলেও সব মিলিয়ে, ব্যালট বক্সের লড়াইয়ের সমান্তরালে পাল্লা দিয়ে চলেছে এদিন রসনা তৃপ্তির লড়াই। গরমকে টেক্কা দিয়ে কোন দলের পাতে জয়ের স্বাদ লেগে থাকে, এখন সেটাই দেখার।