• খড়্গপুর IIT: ক্যাম্পাসিংয়ে চাকরি না পেয়েই কি আত্মহত্যা?
    এই সময় | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, খড়্গপুর: খড়্গপুর আইআইটির ছাত্র সোহম হালদারের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হলো বুধবার। এ দিন ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের পাশাপাশি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের ভিডিয়োগ্রাফি করা হয়। এর পরে দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু ছেলে হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।

    আইআইটি সূত্রে জানা গিয়েছে, সোহমের ব্যাপারে আইআইটি কর্তৃপক্ষ বিশদে জানিয়েছেন পরিবারকে। পাশাপাশি দেখানো হয়েছে সিসিটিভি ফুটেজও। ফলে পরিবারের পক্ষ থেকে আর আলাদা করে থানায় কোনও অভিযোগ জা‌নানো হয়নি। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, কিছুদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন সোহম। আশা ছিল, ক্যাম্পাসিংয়ে ভালো কোনও প্লেসমেন্ট হয়ে যাবে।

    তা না হওয়ায় বন্ধুদের কাছে আফশোসও করতেন। এমনকী, এ বার দু'টি পরীক্ষাও এবার দেননি তিনি। প্রাথমিক তদন্তে এবং সোহমের বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশের অনুমান, দ্রুত প্লেসমেন্ট না পাওয়ার বিষয়টা মন থেকে মেনে নিতে পারেনি সোহম। কষ্ট পাচ্ছিলেন। তা সত্ত্বেও দুই বন্ধু এক ঘরে থাকায় চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। সোমবার যেহেতু অন্য বন্ধু বাড়ি চলে গিয়েছিলেন, সেই সুযোগেই এই মর্মান্তিক পরিণতি!

    তদন্তে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদেরও সাহায্য নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাই ঘরটি আপাতত সিল করে রাখা হয়েছে। তাঁরা এসেও তদন্ত করবেন। এ দিন ছেলের দেহ নিতে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যান সোহমের বাবা দেবাশিস হালদার। তিনি বলেন, 'পরীক্ষার পরে ফোনে কথাও হয়েছিল। ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি যাবে বলেছিল। পড়াশোনাতেও ভালো। তবু কী যে হলো।'

    আইআইটির অধ্যাপকরাও বলছেন, 'সামনের বছরও ক্যাম্পাসিংয়ে প্লেসমেন্টে চাকরির সুযোগ ছিল। তার জন্য মন খারাপের কারণ ছিল না। যদি মন খারাপ হয়, তার জন্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। অধ্যাপকদেরও সঙ্গেও সব সময় কথা বলা যায়। কিন্তু সোহম এই বিষয়ে কাউকেই কিছুই জানায়নি। বাড়িতেও বলেনি। মনের কথাটা বলতে পারলে, নিশ্চিত তাঁকে বোঝানো সম্ভব হতো। মর্মান্তিক পরিণতি হতো ন‌া।'

  • Link to this news (এই সময়)