এই সময়, বালি: দ্বিতীয় দফার ভোটে ফের বিতর্কের মুখে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তা নিয়ে সরব শাসকদল।
হাও়ডা ও হুগলি, দুই জেলাতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে দলীয় কর্মীদের মারধর, মহিলাদের হেনস্থা–সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। তা নিয়ে কমিশনের কাছেও অভিযোগ জমা পড়েছে।
শ্রীরামপুর বিধানসভার অধীন রিষড়ার হেস্টিংস জুট মিলের একটি বুথে এক সংখ্যালঘু মহিলা ভোটারের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বোরখা খোলানোর অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এর মহিলা জওয়ানের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন শ্রীরামপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর ইলেকশন এজেন্ট সন্তোষকুমার সিংহ।
এ দিন সকালে বালি বিধানসভার ১৫২ ও ১৫৩ নম্বর বুথের ইভিএম বিকল হয়ে যায়। তার জেরে ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। ভোটাররা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ডিসিআরসি থেকে নতুন ইভিএম আনতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়। তাতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভোটাররা। বিভিন্ন দলের এজেন্টরাও প্রতিবাদ জানান। তা নিয়ে বুথের মধ্যে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান বুথের ভিতরে ঢুকে আচমকা এক এজেন্টকে মারধোর শুরু করেন বলে অভিযোগ। তাঁকে বাঁচাতে গেলে দুই মহিলা এজেন্টের হাতেও লাঠির ঘা পড়ে। তা নিয়ে অসন্তোষ চরমে ওঠে।
প্রতিবাদ জানানোয় আরও দুই এজেন্টকে তুলে নিয়ে যায় জওয়ানরা। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, নবীন দাশগুপ্ত নামে এক এজেন্টকে মারতে মারতে চ্যাংদোলা করে টেনে হিঁচড়ে বুথ থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। এই ঘটনায় সোহনলাল দেওরালিয়া স্কুলের সামনে অভয় গুহ রোড জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় বাহিনী জওয়ানরা ভোট কেন্দ্রের বাইরে তৃণমূল সমর্থকদের উপরে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্র এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছেন।
চুঁচুড়ার দেবানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েত ৫৭ নম্বর বুথে তৃণমূলের পোলিং এজেন্ট সমীর দাসকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য। তারকেশ্বরেও নিরীহ গ্রামবাসীদের উপরে লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে।