ধর্ষণের শিকার ১৫ বছরের এক কিশোরীকে গত সপ্তাহে গর্ভপাত করানোর অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কেন্দ্রীয় সরকার। যুক্তি দেয়, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার ৩১ সপ্তাহ কেটে যাওয়ার পরে গর্ভপাত করানো ঠিক হবে না। এই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে বৃহস্পতিবার ওই মামলায় কেন্দ্রকে ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত পছন্দ এবং সিদ্ধান্তের উপরে সরকারের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের পছন্দ-অপছন্দের চেয়ে ওই কিশোরী এবং তার পরিবারের ইচ্ছাকেই সম্মান জানানো উচিত। এ বিষয়ে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট আইনেও বদল আনা উচিত বলে কেন্দ্রকে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
আইন অনুযায়ী, জীবনের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে ২৪ সপ্তাহ পরে গর্ভপাতে বাধা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, কোনও নাবালিকা বা তরুণী ধর্ষণের কারণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে এ রকম কোনও সময়সীমা থাকা উচিত নয়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েই আইন হওয়া উচিত। কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটিকে কার্যত তিরস্কার করে প্রধান বিচারপতি কান্ত বলেন, ‘ধর্ষণের পরে ওই কিশোরী যে মানসিক এবং শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গিয়েছে, কোনও কিছুই তার ক্ষতিপূরণ করতে পারবে না। নাগরিককে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দিন ম্যাডাম। আপনার কোনও অধিকার নেই এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার। যদি কেউ করতে পারে, সেটা হলো পরিবার।’
প্রধান বিচারপতির এই পর্যবেক্ষণের পরেও আগের নির্দেশ খারিজের আর্জি জানিয়েছিলেন ঐশ্বর্য। আদালতে AIIMS-এর রিপোর্টও তুলে ধরেন তিনি। জানান, চিকিৎসকেরাই বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে গর্ভপাত সম্ভব না। কেন্দ্রের আইনজীবীর বিকল্প প্রস্তাব, ওই কিশোরী সন্তানের জন্ম দিক। তার পর সেই সন্তানকে দত্তক দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। ঐশ্বর্য বলেন, ‘আর চার সপ্তাহ অপেক্ষা করলেই হবে।’
তার প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি কান্ত বলেন, ‘এটা এক নাবালিকাকে ধর্ষণের ঘটনা। তাকে সারাজীবন এই ক্ষত নিয়েই বাঁচতে হবে। একবার তার কষ্টের কথাটা ভাবুন। কী পরিমাণ যন্ত্রণা ওকে সহ্য করতে হচ্ছে! এই ভ্রূণ বহন করার যে কী যন্ত্রণা, সেটা একবার ভাবুন। যদি প্রাপ্তবয়স্ক কেউ হতেন, তা হলে হয়তো পরিস্থিতিটা একটু অন্য রকম হতে পারত।’ প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের আর এক সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও বলেন, ‘চিকিৎসকদের রিপোর্ট পরিবারকে দেখান। তার পর যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, তারাই নেবে। কিন্তু আপনারা এ ব্যাপারে আর নাক গলাবেন না।’
গত সপ্তাহে বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার ডিভিশন বেঞ্চ ওই কিশোরীকে গর্ভপাতের অনুমতি দিয়েছিল। সেই সময়ে পরিবার আদালতে জানিয়েছিল, পরিস্থিতির চাপে দু’বার আত্মহত্যারও চেষ্টা করেছিল ওই কিশোরী। তা নজরে রেখে প্রধান বিচারপতি কান্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কিশোরীর জীবন না ভ্রূণ, এটা যদি তর্কের বিষয়বস্তু হয়, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ওই কিশোরীকে বেছে নেওয়া হবে। প্রধান বিচারপতির কথায়, ‘ওই কিশোরীর জীবনে অনেক স্বপ্ন রয়েছে। সে ওই স্বপ্ন পূরণ করবে, নাকি এই বয়সে মা হবে? বিচাররের জন্য প্রয়োজনে আইনকে আরও কঠোর হতে হবে।’