• কন্যারত্নকে আগলে রাখছে ভারত, ইঙ্গিত কেন্দ্রের সাম্প্রতিক সমীক্ষায়
    এই সময় | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • FHAপহেলগামে মহিলাদের কপাল থেকে সিঁদুর মোছার জবাবে পাকিস্তানের ঘরে ঢুকে হামলা। ভারতের মাইলস্টোন অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পুরোভাগে ছিলেন মহিলা সেনা অফিসাররা। শুধু তাই নয়, এই অভিযানের খুঁটিনাটি দেশবাসীকে জানিয়েছিলেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ও উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং। ২০২৫-এর সে দিন দুই মহিলা সেনা অফিসারকে দেখে আর তাঁদের মুখে দুঃসাহসিক সেই অভিযানের বর্ণনা শুনে গর্বে বুক ফুলে ১৩৩ কোটি ভারতবাসীর। দেশের নারী ক্ষমতায়নের পোস্টার হয়ে উঠেছিলেন সোফিয়া ও ব্যোমিকা। ঘরে-বাইরে লড়াইয়ে আজ আর সত্যিই কোথাও পিছিয়ে নেই দেশের মেয়েরা। আকাশ থেকে যুদ্ধক্ষেত্র — সবেতেই উজ্জ্বল উপস্থিতি তাঁদের। ঘরের কন্যারত্নকে যে আগলে রাখতে শিখেছে ভারত, তার প্রমাণ মিলল সাম্প্রতিক লিঙ্গ সমীক্ষাতেও। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশ উন্নত হয়েছে নারী-পুরুষের লিঙ্গ অনুপাতে। কমেছে ব্যবধান।

    কেন্দ্র সরকার সম্প্রতি বিশদ ‘Gender-Disaggregated Data’ প্রকাশ করেছে। সেই তথ্য অনুযায়ী, জন্মের সময়ে নারী ও পুরুষের লিঙ্গ অনুপাত (Gender Ratio at Birth) ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। লিঙ্গ অনুপাত বলতে প্রতি ১০০০ পুরুষে নারীর সংখ্যা বোঝায়, যা একটি দেশের সামাজিক ভারসাম্য, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং লিঙ্গসমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

    ২০১৭–১৯ সালে এই অনুপাত ছিল প্রায় ৯০৪, অর্থাৎ প্রতি ১০০০ পুরুষে ৯০৪ জন নারীর জন্ম হতো। পরবর্তী বছরগুলিতে সেই অনুপাত বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন সরকারি ও সমীক্ষা সূত্রে খবর, ২০২২–২৩ সালে সেই অনুপাত বেড়ে ৯৩০ থেকে ৯৩৩-এর কাছাকাছি পৌঁছয়।

    ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ম্যানেজার পদে নিযুক্ত পুরুষের সংখ্যা ৭৩.৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে, একই সময়ে এই সমমর্যাদার পদে নিযুক্ত মহিলাদের সংখ্যা ১০২.৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। Ministry of Statistics & Programme Implementation-এর বিবৃতি অনুযায়ী, এই রিপোর্টটি মূলত বিভিন্ন মন্ত্রক, দপ্তর ও সংস্থার তথ্য ব্যবহার করে জনসংখ্যা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অন্যান্য লিঙ্গ-সম্পর্কিত বিষয়ের সূচকগুলির সংকলন।

    সম্প্রতি ‘ভারতে নারী ও পুরুষ ২০২৫: নির্বাচিত সূচক ও তথ্য’ শীর্ষক একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে মেয়ে ও ছেলে উভয়ের ক্ষেত্রেই শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য ও ধারাবাহিক ভাবে কমেছে।

    ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ সালের মধ্যে উচ্চশিক্ষায় নারীদের ভর্তির হার ২৮.৫ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০.২ শতাংশ এবং পুরুষদের ভর্তির হার ২৮.৩ থেকে বেড়ে ২৮.৯ শতাংশ হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সি নারী ও পুরুষ, উভয়েরই অংশগ্রহণ বেড়েছে বলে সমীক্ষায় প্রকাশিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, তথ্য বলছে, ভারতের শ্রমশক্তিতে গ্রামাঞ্চলের মহিলাদের অংশগ্রহণ আগের থেকে বেড়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই হার ৩৭.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৫.৯ শতাংশ হয়েছে।

    সরকারি বিবৃতি অনুসারে, এই রিপোর্টের লক্ষ্য হলো বিভিন্ন বিষয়ে সঠিক লিঙ্গভিত্তিক তথ্য দেওয়া, যাতে লিঙ্গ বৈষম্যের প্রভাব আরও গভীর ভাবে বোঝা যায়। এই তথ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ, সুবিধা এবং বৈষম্যের চিত্র আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তথ্য ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এবং নারী উন্নয়নমূলক কর্মসূচি পরিকল্পনায় সাহায্য করবে।

  • Link to this news (এই সময়)