• নাম কাটার আতঙ্ক থেকেই বুথে ওঁরা! কয়েক হাজার টাকা খরচ করে বাড়ি ফেরা
    এই সময় | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: ভিন রাজ্যের কর্মস্থল থেকে নিজের এলাকায় ফিরে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলেন পূর্বস্থলী, আউশগ্রাম ও গলসি এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকরা। কর্মব্যস্ত জীবন ফেলে শুধুমাত্র ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্ক এবং নাগরিকত্ব হারানোর ভয়েই এই শ্রমিকদের বড় অংশ কয়েক হাজার টাকা খরচ করে তড়িঘড়ি বাড়ি ফিরেছেন।

    মুম্বইয়ের ঠিকা শ্রমিক অজয় মেটে যেমন ডিটেনশন ক্যাম্পে যাওয়ার আশঙ্কায় ভোট দিতে এসেছেন, তেমনই দুবাই থেকে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে প্রথম বার ভোট দিতে ফিরেছেন স্বর্ণশিল্পী বাসুদেব ঘোষাল। আউশগ্রামে ভোট দিতে আসা বাসুদেবের আক্ষেপ, 'নির্বাচন কমিশনের খামখেয়ালিপনার কারণেই এই বিপুল খরচ করে এখানে আসতে হয়েছে।' তবে ভোট শান্তিপূর্ণ হওয়ায় তিনি খুশি।

    রাজকোটে সিটি গোল্ডের কাজ করা পূর্বস্থলীর প্রশান্ত মণ্ডল জানান, মালিক ছুটি দিতে রাজি না-হলেও নাম কাটা যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি অনেক কষ্টে বাড়ি পৌঁছেছেন। গুজরাট থেকে ফিরে আসা সাবির শেখ বলেন, 'ভোট দিতে পেরে তৃপ্ত হলেও ফেরার ট্রেনের টিকিট না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছি।' একই চিত্র দেখা গিয়েছে তামিলনাড়ু থেকে গলসির শিড়রাই আসা মিরাজউদ্দিন শেখের ক্ষেত্রেও যিনি স্রেফ নাম কাটা যাওয়ার ভয়ে পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে ভোট দিতে এসেছেন।

    তিনি বলেন, 'এ বার সবাই বলেছে সার-এর জন্য ভোট না দিলে ওরা নাম কেটে দেবে। তাই বাধ্য হয়েই পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে ছুটি নিয়ে এসেছি। ভয়েই বলতে পারেন।' উত্তরপ্রদেশের বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত মহাদেব বাউড়িও পরিবারের চাপে প্রথম বারের মতো ভোট দিলেন গলসিতে। কর্মস্থল থেকে দূরে থাকলেও নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং ভিটেমাটির অধিকার রক্ষায় এই পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে এ বারের নির্বাচন ছিল এক বড় লড়াই ও কর্তব্যের নামান্তর। অবশেষে সেই ভয় আর উৎকণ্ঠা নিয়েই লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের রায় দান করলেন তাঁরা।

  • Link to this news (এই সময়)