• ‘বিমারু’ তকমা মুছে এক্সপ্রেসওয়েতে সওয়ার যোগীরাজ্য, সাফল্যের মুকুটে নয়া পালক
    প্রতিদিন | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • যে রাজ্য একসময় ‘বিমারু’ তকমা নিয়ে ধুঁকছিল, আজ সেখানে উন্নয়নের চাকা ঘুরছে এক্সপ্রেসওয়ের মাপে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ‘কমপ্লিট প্যাকেজ মডেল’ শুধু শিলান্যাস নয়, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার এক নতুন সংস্কৃতি তৈরি করেছে। উত্তরপ্রদেশ এখন ভারতের এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্কের প্রায় ৬০ শতাংশের মালিক।

    ভ্রমণপিপাসু হোক বা নিত্যযাত্রী, উত্তরপ্রদেশের পথঘাট এখন স্বপ্নপুরীর মতো। ৫৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে তারই জলজ্যান্ত উদাহরণ। ২০২১ সালে যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছিল, ২০২৬-এর এপ্রিলে তা জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হল। একইভাবে পূর্বাঞ্চল ও বুন্দেলখণ্ড এক্সপ্রেসওয়ে আজ রাজ্যের প্রান্তিক এলাকাগুলোকে উন্নয়নের মূল স্রোতে মিলিয়ে দিয়েছে। লখনউ থেকে কানপুর যাওয়ার দু’ঘণ্টার পথ এখন মাত্র ৪৫ মিনিটের গল্প। গোরক্ষপুর লিঙ্ক এক্সপ্রেসওয়েও গতি বাড়িয়েছে এই কর্মযজ্ঞে। ঝাঁসি লিঙ্ক এক্সপ্রেসওয়ের কাজও এগোচ্ছে দ্রুতগতিতে।

    পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে আকাশপথেও। ২০১৭ সালের আগে রাজ্যে চালু বিমানবন্দর ছিল মাত্র দুটি। আজ সেখানে পাঁচটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সহ মোট ২১টি বিমানবন্দরের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ চলছে। রেকর্ড সময়ে তৈরি হয়েছে অযোধ্যার মহাঋষি বাল্মীকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। জেওয়ার বিমানবন্দরের প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন দিল্লির এনসিআর অঞ্চলের চাপ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। আজমগড়, আলিগড় বা শ্রাবস্তীর মতো শহরগুলি এখন দেশের আকাশপথের মানচিত্রে উজ্জ্বল। পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরে বিমানযাত্রীর সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    শুধু সড়ক বা আকাশ নয়, নগরায়নের ভোল বদলে দিচ্ছে মেট্রো ও র‍্যাপিড রেল। আগ্রা মেট্রো মাত্র চার বছরে দৌড়তে শুরু করেছে। মিরাট মেট্রোও এখন গতিময়। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই উত্তরপ্রদেশ। লখনউতে ব্রহ্মোস মিসাইল তৈরির ইউনিট বা কানপুরে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন কেন্দ্র রাজ্যকে এক নতুন পরিচয় দিয়েছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার আর প্রশাসনিক তৎপরতাতেই আজ উত্তরপ্রদেশ উন্নয়নের দ্রুততম সরণিতে। ভিত্তিপ্রস্তর থেকে উদ্বোধন— যোগী রাজ্যের এই রূপান্তর এখন গোটা দেশের কাছে এক দৃষ্টান্ত। উত্তরের এই পথ ধরে বইছে নতুন হাওয়া।
  • Link to this news (প্রতিদিন)