• এসআইআর আবহে মতুয়াগড় বনগাঁয় ‘নীরবে’ রেকর্ড ভোট, নাম বাদের প্রতিবাদ নাকি আতঙ্ক?
    প্রতিদিন | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • সম্প্রতি এসআইআর প্রক্রিয়ায় বনগাঁ মহকুমার চারটি আসনে ১লক্ষ ৭১ হাজার লোকের নাম বাদ গিয়েছে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই উদ্বাস্তু মতুয়া সমাজের মানুষ বলে খবর। এই আবহে বুধবার বিধানসভা ভোটে বনগাঁ মহকুমার চারটে আসন মিলিয়ে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। যা নিয়ে চলছে জোর কাটাছেঁড়া। এসআইআর আবহে মতুয়া এলাকায় বিপুল ভোটদানের নেপথ্যে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা নাকি এসআইআরের প্রতিবাদ, স্বাভাবিকভাবে তা নিয়ে চলছে চর্চা।

    বাগদার মতুয়া ভক্ত হর্ষিত বিশ্বাসের কথায়, “২০১৯ সাল থেকে বিজেপি আমাদের নাগরিকত্ব দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে ৷ নাগরিকত্ব তো পেলামই না ৷ উলটে এসআইআরে আমাদের নাম তোলা নিয়ে ভোগান্তি হল। এরই প্রতিবাদে আমরা ভোট দিয়েছি ৷” ছাব্বিশের ভোটে অংশ নিতে না পারায় হতাশ বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রের বাসিন্দা সুপর্ণা রায়। তিনি বলেন, “২০২৪ সালে আমি ভোট দিয়েছি। এবার এসআইআর প্রক্রিয়ায় আমার নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ যদিও আমি সমস্ত রকম নথিপত্র জমা দিয়েছিলাম।” সুপর্ণার স্বামীর নাম রয়েছে এসআইআর তালিকায়। তাঁর স্বামী বলেন, “ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে আমার স্ত্রীকে অসম্মান করা হয়েছে ৷ তার জবাব আমি ভোটবাক্সে দিয়ে এসেছি।”

    সবমিলিয়ে দিনভর মতুয়া উদ্বাস্তু বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে নাগরিকত্ব না পাওয়া ও এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা গিয়েছে ৷ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, ৯০ শতাংশ ভোট মতুয়াদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ৷ তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “মতুয়াদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকার তাঁদের অসম্মান করেছে ৷ সেই অসম্মানের জবাব তাঁরা দিয়েছেন ভোটবাক্সে।” যদিও এই মানতে নারাজ বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর ৷ তিনি বলেন, “ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলেও পরবর্তীকালে তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় উঠবে। কেউ তাঁদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করতে পারবেন না। মতুয়ারা এটা বিশ্বাস করেন ৷ ফলে মতুয়ারা বিজেপির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।” বাস্তবে ভোট কোন দিকে পড়ল, বনগাঁর রং সবুজ নাকি গেরুয়া, তা জানা যাবে আগামী ৪ মে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)