• শেষ পর্বের ভোটে আদৌ চোখে চোখ রেখে লড়াই করা গেল? চিন্তা বিজেপি শিবিরে
    প্রতিদিন | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • দ্বিতীয় দফার ভোটে (WB 2nd Phase Election 2026) আদৌ কি চোখে চোখ রেখে লড়াই দেওয়া গেল। একুশের নির্বাচনে এই পর্বের ভোটে ১৪২ আসনে যে খারাপ ফল হয়েছিল তার কি বদল হবে এবার! এই পর্বে গতবারের তুলনায় আসন বাড়ানো কি সম্ভব হবে, সেটা নিয়ে বিজেপির মধ্যেই প্রশ্ন। ভোট শেষে তা নিয়ে রয়ে গেল ধন্দও।

    দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোট হয়েছে বুধবার। কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি ও পূর্ব বর্তমানে এই দফায় ভোট হয়েছে। নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়াগড় ও একটা বড় অংশ বাদ দিলে বাকি কোথাও বিজেপির শক্তি সেভাবে নেই। গত বিধানসভা ভোটে এই সাতটি জেলার ১৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছিল ১২৩টি আসন। বিজেপির দখলে ছিল মাত্র ১৮টি। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই সাতটি জেলার মধ্যে পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিজেপি ছিল শূন্য। হুগলির চারটি আসন ছাড়াও নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনায় একটা অংশে বিজেপির জেতা আসন রয়েছে।

    যদিও গত লোকসভা ভোটের নিরিখে এই ১৪২টির মধ্যে ২৭টি আসনে এগিয়েছিল বিজেপি। আবার কলকাতায় জোড়াসাঁকো ও শ্যামপুকুর কেন্দ্রে এগিয়েছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু একুশের বিধানসভা ভোটের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করলে শেষ পর্বের ভোটে ১৪২টি আসনের মধ্যে বিজেপির প্রাধান্য খুবই কম আসনে। তৃণমুল তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়েছে। ফলে এই পর্বের ভোটে গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্যই ছিল ভোটটা বাড়ানো। আরও বেশি সংখ্যক আসন যাতে দখলে আছে। ভোট শেষের পর সেটা কতটা সম্ভব হল, আদৌ আসন গতবারের থেকে বাড়বে কি না তা নিয়ে সমীক্ষা শুরু করেছে রাজ্য বিজেপি। দ্বিতীয় দফার ভোট কেমন হয়েছে তা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে বারবার ফোন এসেছে রাজ্য নেতাদের কাছে। তবে প্রথম দফার ভোটের মতো শেষ দফাতেই খুব একটা উল্লসিত বিজেপিকে দেখা যায়নি। শুভেন্দু অধিকারী থেকে অর্জুন সিং-রা ছাড়া বিজেপির কোনও প্রার্থীকেই সেভাবে সক্রিয় দেখা যায়নি ভোট ময়দানে।

    আবার এই ১৪২টি আসনের মধ্যে একাধিক আসনে সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে। যা নিয়ন্ত্রক। আবার একাধিক জেলায় অবাঙালি হিন্দু ভোট রয়েছে। ফলে ভোট সমীকরণে সেখান থেকে বিজেপি কতটা সুবিধা এবার আদায় করতে পারল সেটাও নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আবার মতুয় ভোটেও একচ্ছত্র আধিপতা বিজেপির নেই। সেখানেও একটা ভালো আংশের ভোট তৃণমূলের ঝুলিতে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে। আবার এই দফায় বেশ কিছু আসনে বামেরা নির্ণায়ক শক্তি হতে পারে। রামে যাওয়া ভোট বামেরা অনেকটাই তাদের ঝুলিতে ফিরে পেতে পারে। ফলে সেটাও বিজেপির বিপক্ষে যাবে। কাজেই ভোট মেটার পর দলের অন্দরে কাটাছেঁড়া চললেও বিজেপির মধ্যে ধন্দ রয়েই গেল। শেষ পর্বের ভোটে একুশের ফলের নিরিখে তারা আদৌ কতটা ভালো ফল করবে? তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

    যদিও এক্ষেত্রে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর বক্তব্য, “মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং তৃণমূলের বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। খেলা শেষ তৃণমুল বুঝে গিয়েছে।” এদিকে, ভোটের দিনে ডায়মন্ডহারবারের ফলতার কয়েকটি বুথের ইভিএমে নাকি ‘টেপ’ লাগানো রয়েছে। এমন একটি ছবি পোস্ট করে আবার ওই বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বিজেপি। ফলতার এই ঘটনা নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন অমিত শাহ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)