ঠিক পাঁচ বছর আগে বঙ্গের রাজনৈতিক হাওয়া নাকি ছিল গেরুয়ামুখী। সেবার বিধানসভা ভোট (West Bengal Elections 2026) মিটে যাওয়ার পরপর এক্সিট পোল অন্তত তেমনই আভাস দিয়েছিল। তৃণমূল সরকারের পতন এবং বিপুল আসন নিয়ে বঙ্গে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পক্ষে হিসেব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল সমস্ত বুথ ফেরত সমীক্ষার হিসেব ওলটপালট করে দিয়েছিল। তৃণমূল ২১৩ আসন পেয়েছিল এবং পদ্মরথ থেমে গিয়েছিল সাতাত্তরে।
এবার অর্থাৎ ছাব্বিশের নির্বাচনের পরও ঠিক তেমন আবহাওয়া টের পাওয়া যাচ্ছে। এক্সিট পোলে পরিবর্তন ও প্রত্যাবর্তন দুয়ের সম্ভাবনার কথা থাকলেও জনতার আলোচনায় পরিবর্তনের কথাই বেশি ধরা পড়ছে। কিন্তু এসব এক্সিট পোলে উচ্ছ্বসিত নয়, গণনা শেষে ফলপ্রকাশ পর্যন্ত ধৈর্য রাখা নিয়ে নিজের দলকেই সতর্কবার্তা দিলেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায় (Tathagata Roy)। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ফেসবুক পোস্ট করে জানালেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি! এগজিট পোল নিয়ে আনন্দিত হোন, কিন্তু উচ্ছ্বসিত হবেন না।’
তথাগত রায় ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি! এগজিট পোল নিয়ে আনন্দিত হোন, কিন্তু উচ্ছ্বসিত হবেন না। ভোটগণনা এখনো বাকি আছে, তাতে চোরের দল কি চেষ্টা করবে আমরা জানি না। কাউন্টিং এজেন্টদের নির্দেশ দিন, রিটার্নিং অফিসার জয়ী ঘোষণা করা পর্যন্ত তারা যেন গ্যাঁট হয়ে সেখানে বসে থাকে। কোথাও যেন না যায়। ২০২১-এর কথা ভুলবেন না। যে শিম্পাঞ্জির উপর পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল, সে বেলা সাড়ে বারোটার সময় আত্মসমর্পণ করে, “মমতাজী কে প্রতি শুভকামনা হ্যায়” বলে রাজ্য ছেড়ে পালায়।’
এখানে তিনি একুশের ভোটে বঙ্গ বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্তদেরও কটাক্ষ করেছেন তথাগত রায়। তবে এই প্রথম নয়, আগেও একাধিকবার বর্ষীয়ান পদ্মনেতার গলায় রাজ্য নেতৃত্ব দিয়ে সমালোচনা শোনা গিয়েছিল। একসময়ে বিজেপিতে একাধিক তারকার ভিড় হওয়ায় পার্টিকে ‘কামিনীকাঞ্চন’ বলে খোঁচা দিয়েছিলেন তথাগত। এমনও ইঙ্গিত করেছিলেন যে এভাবে দল কখনও বাংলা দখল করতে পারবে না। আর ছাব্বিশের ভোটে যতই বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশে বদলের লক্ষ্ণণ দেখা যাক, তথাগত রায়ের মতে, এখনই এতে উচ্ছ্বসিত হওয়ার কারণ নেই।