মোথাবাড়ি কাণ্ডে ফের জামিন খারিজ মিম নেতা মোফাক্কেরুলের, আর কতদিন জেলে?
প্রতিদিন | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
এসআইআরের (SIR in West Bengal) কাজে যাওয়া বিচারকদের রাতভর আটকে রেখে হেনস্তার অভিযোগে এবারও জামিন মিলল না মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামের (Mofakkerul Islam)। সেইসঙ্গে আরও ৫২ জনেরও জামিন খারিজ করেছে এনআইএ-র বিশেষ আদালত। বৃহস্পতিবার এনআইএ-র বিশেষ আদালতে মোথাবাড়ি কাণ্ডের (Mothabari Case) শুনানি ছিল। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে যার নাম উঠে এসেছে, সেই মোফাক্কেরুল ইসলামের জামিনের আবেদন মঞ্জুর হল না। ১৩ মে পর্যন্ত ফের জেল হেফাজতে থাকতে হবে মোফাক্কেরুল-সহ ৫২ জনের।
ঘটনা সেই ১ এপ্রিলের। এসআইআরের কাজে কমিশনের গড়ে দেওয়া ট্রাইব্যুনাল মালদহে কাজ করতে গেলে মোথাবাড়িতে তাঁদের ঘেরাও করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিডিও অফিসে রাতভর আটকে রাখা হয়। যদিও গোটা ঘটনায় মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামের ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে দেখা যায়, ওইদিনই সুজাপুরে একটি সভা করে মোফাক্কেরুল ইসলাম (Mofakkerul Islam) এসআইআর নিয়ে যথেষ্ট উসকানিমূলক বক্তব্য রেখেছিলেন। তার জেরেই রাতে মোথাবাড়িতে ওই ঘটনা (Mothabari Case) ঘটে। বিচারকদের আটকে রাখার মতো গুরুতর ঘটনা সামলাতে ব্যর্থতার আঙুল ওঠে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধেও। এনিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত ভর্ৎসনার মুখে পড়েন আধিকারিকরা।
ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্ত হিসেবে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশ। ধীরে ধীরে একে একে অভিযুক্ত অনেকেই গ্রেপ্তার হয়। ইতিমধ্যে অবশ্য এনআইএ-র হাতে যায় তদন্তভার। তাই ধৃতদের এনআইএ-কে হস্তান্তর করতে হয়। এনআইএ আদালতে বিচার চলে। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি চলাকালীন এনআইএ-র জানানো হয়, অভিযুক্তদের ফোনকল যাচাই করতে তাদের আরও কিছুটা সময় লাগবে। তদন্তকারী সংস্থার ওই আবেদন মেনে অভিযুক্তদের আরও ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। ১৩ মে মামলার পরবর্তী শুনানি।
এদিন শুনানিতে আবেদনকারীদের আইনজীবী বলেন, ”আমরা জামিনের আবেদন জানাচ্ছি। কারণ SIR নিয়ে আন্দোলন এখনও চলছে।” পালটা এনআইএ-র আইনজীবী শ্যামল ঘোষ সওয়াল করেন, ”আমরা আপত্তি জানাচ্ছি। কারণ তদন্ত এখনও চলছে।” আরও সওয়াল, ”আমাদের এখনও তদন্ত চলছে। প্রতিদিনের রিপোর্ট আমরা সুপ্রিম কোর্টে পাঠাচ্ছি। এর আগে এই আদালত এই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে জামিন দেননি। এই ব্যক্তি পুরো হাইওয়ে জ্যাম করে রেখেছিল রাত সাড়ে বারোটা থেকে। আর দ্বিতীয়জন একরামুল বাগানি যে মোফাক্কেরুলের বক্তব্যের ভিডিও আপলোড করেছিল, যার জন্য এত বড় ঘটনা ঘটেছিল। তাই আমরা এই জামিনের বিরোধিতা করছি। এখনও আমরা অভিযুক্তদের ফোনকল যাচাই করছি। আমাদের ন্যূনতম আরও ১৪ দিন চাই তদন্তের জন্য।” এরপর জামিন খারিজে করে দেন এনআইএ বিশেষ আদালতের বিচারক সুকুমার রায়।