সুমন তেওয়ারি, কাঁকসা: কাঁধে ঝোলানো একটা থলি। তার ভিতরে কাস্তে, আর টিফিন। জমিতে কাজ করতে যাবেন। তার আগে শিবপুরে ভোট দিতে যাচ্ছেন পূর্ণিমা বাগদি। বুথের অদূরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন কিনা প্রশ্ন করতেই জবাব, ‘আমি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছি। মেয়ে কন্যাশ্রীতে টাকা পেয়েছে। সবুজসাথীর সাইকেল পেয়েছে।’ পূর্ণিমার কথায় থাবা বসিয়ে শ্যামলা বাগদিও বলছিলেন, ‘মেয়েরা বিয়ের সময় রূপশ্রীর টাকা পাচ্ছে। আমাদের মতো গরিব পরিবারে খুব কাজে লাগছে।’ এবার একযোগে পূর্ণিমা-শ্যামলা বললেন, ‘দিদি আমাদের দেখছেন, আমরা দিদিকে দেখব না!’ বলেই বুথের দিকে এগিয়ে গেলেন দু’জন। গলসি বিধানসভা এলাকাজুড়ে সব বুথে ভোর থেকেই মহিলাদের লম্বা লাইন। হাসি মুখে ভোট দিয়ে বেরিয়ে বহু মহিলা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আস্থা দেখিয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর জনমুখী প্রকল্পগুলির স্তুতি করছেন সকলেই। বনকাটি পঞ্চায়েতের অযোধ্যা হাইস্কুলের বুথে মহিলাদের লম্বা লাইন। ভোট দিয়ে বেরিয়ে গাছ তলায় জিরিয়ে নিচ্ছিলেন চন্দনা রুইদাস। তিনি বলেন, ‘দিদি আমাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েছেন। বাংলার বাড়ির টাকাও পেয়েছি। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। দিদিই তো দিচ্ছে!’ পুলিশ কর্মীরা লাঠি উঁচিয়ে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিতেই তিনি হাঁটতে শুরু করলেন। এগারো মাইলের সোমা বিশ্বাস থেকে রূপা দাস হাসিমুখে জানিয়েছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেয়ে তাঁরা খুশি। তবে, সরকারি বাড়ি পাওয়া নিয়ে কিছু এলাকায় ক্ষোভ রয়েছে। যেমন, বিদবিহার পঞ্চায়েতের অজয়পল্লির লক্ষ্মী সরকার, পূর্ণিমা মশানরা বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা খুবই কাজে লাগছে। মিথ্যা বলব না। তবে, সরকারি বাড়ি যাঁদের প্রয়োজন তাঁদের দেওয়া উচিত। আমাদের মাটির বাড়ি। তাও ঘর পাইনি।’
কাঁকসার মিরে পাড়ায় ভোট দিয়ে বসেছিলেন সালেহা বিবি। বাড়ির সামনের ড্রেন থেকে উপচে পড়ছে নর্দমার জল। জঙ্গালে ভর্তি ড্রেন। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কাজ করেন না। তা বলে তো দিদিকে দোষারোপ করা যায়না। ওঁর নজরে এলে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবেন। তাঁকে দেখেই মানুষ ভোট দেয়।’ তৃণমূলের শক্তি যদি হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা প্রকল্প তাহলে বিজেপির দুর্বলতা ঔদ্ধত্য। ক্ষমতার আসার আগেই যেমন বিজেপি নেতাদের গলার স্বর পাল্টে গিয়েছে তেমনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর আস্ফালনকে নিজেদের শক্তি ভাবতে শুরু করেছে তাঁরা। শিবপুর অবৈতণিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সাত সকালেই বুথের সামনে লম্বা লাইন। তাঁর কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে জনা আটেক যুবক। তাঁরা সকলেই বিজেপি কর্মী। তপন লোহার এগিয়ে এসে বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস পোলিং এজেন্ট বসানোর অনুমতি নিয়েছে আমাদের কাছে। আমরা বলেছি বসাতে। তাই বসিয়েছে।’ পঞ্চায়েতে এই দাপট থাকে না কেন? ‘তপনের উত্তর তখন চেম্বার দেখিয়ে ভোট করায়।’ কাঁকসার মোল্লাপাড়ায় ভোটাররা ভোট দেওয়ার পর তাঁদের স্লিপ জেরক্স করছিলেন। সেখানে হানা দিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁদের স্লিপ কেড়ে নিয়ে ছিড়ে দেয় বলে অভিযোগ। তৃণমূল এদিন গ্রামে উৎসাহের সঙ্গে ভোট করিয়েছে। আর জমায়েত দেখলেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে সাধারণ মানুষকে তাড়া করিয়েছে বিজেপি। বিজেপি জেলা সহসভাপতি রমন শর্মা বলেন, ‘তৃণমূল আগে শাসকের আইন চালিয়েছিল। এখন আইনের শাসন দেখছে।’ গলসির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অলোক মাঝি বলেন, ‘বিজেপি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে অত্যাচার করছে। তবু মানুষ আমাদের ভোট দিচ্ছে।’