নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বরানগর: সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। বেলা ১০টা হতে না হতেই টিপটিপ বৃষ্টি। গঙ্গার ঠান্ডা হাওয়া। কেউ ভোট দিয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়ানোর আগে থলে হাতে হাজির মাংসের দোকানে। উত্তর ও দক্ষিণ শহরতলির প্রতিটি এলাকার খাসি ও মুরগি মাংসের দোকানে এদিন মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কিছু জায়গায় আবার ভোটের লাইনকেও ছাপিয়ে যায়। আবার দিনভর ছুটির মেজাজে কোথাও কচিকাঁচাদের সঙ্গে ব্যাট হাতে মাঠ কাপালেন বড়রাও। শহরতলির শান্ত ভোটে উৎসবের আমেজেই ভোট ও পেট পুজোয় ব্যস্ত রইল শহরবাসী।
মাছ-মাংসের দোকানে যেমন ভিড় জমেছিল, তেমনই শহরতলির রাস্তায় এদিন ভাতের হোটেল কিছুই খোলা ছিল না। বরং তার চেয়ে বেশি খোলা ছিল বিরিয়ানির হোটেল। এদিন দুপুরে সোনারপুরে মাছ-ভাতের হোটেল খুঁজতে খুঁজতে হাঁপিয়েই উঠেছেন একদল তরুণ। শেষ পর্যন্ত বিরিয়ানিতেই পেটপুজো করতে হল। বুধবার সকালে দক্ষিণেশ্বরের খাসির দোকানে লম্বা লাইন। রাস্তা দিয়ে যাওয়া অনেকেই সেই লাইন দেখে হকচকিয়ে যাচ্ছেন। সুধাংশু দত্ত বাইক নিয়ে আচমকা দাঁড়িয়ে পড়লেন। স্বভাব রসিক সুধাংশুবাবু ডাক পাড়লেন, এখানে বুথ হয়েছে নাকি? কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তো দেখা যাচ্ছে না। দোকান মালিক শাহজাদা বলেন, মঙ্গলবার রাতেও ভিড় ভালো হয়েছিল। অনেকে ফোন করে সকালে আসবে বলেছিলেন। তবে সংশয় ছিল। দোকান খুলতে হয়ত দেবে না সেই আশঙ্কাও ছিল। ঘণ্টাদুয়েক দোকান খুলেছি। কিন্তু কোনো সমস্যা নেই। চারটা ছাগল কেটেছি। একই চিত্র দেখা গিয়েছে বরানগর, সোদপুর, খড়দহসহ শহরতলির নানান প্রান্তে। মুরগি মাংসের দোকানেও লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। সোদপুরের কিছু প্রসিদ্ধ মিষ্টির দোকান ও খাবারের দোকানেও এদিন ভিড় ছিল নজরকাড়া। ভোটের দিন উৎসাহের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট ও পেটপুজোর ছবি প্রতিটি বিধানসভা এলাকাতে দেখা গিয়েছে রাজনৈতিক দলের তরফেও। প্রতিটি এলাকায় সাধ্যমতো বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কর্মীদের জন্য খাবার আয়োজন করেছিল। কোথাও ধোঁয়াওঠা বিরিয়ানি, কোথাও ফ্রায়েড রাইস, চিলি চিকেন, কোথাও আবার ভাত ও কষা মাংস। সকালের টিফিনে কচুরি থেকে শুরু করে কেক, কলা, ডিমের প্যাকেট, মুড়ি-ছোলা বাদ যায়নি কিছুই। বৃষ্টি কমতেই মেঘলা আকাশ দেখে ছুটির আমেজে বহু জায়গায় খেলার আনন্দে মেতে উঠতে দেখা যায় খুদেদের। সেই দলে বড়োরাও নাম লেখায়। সোদপুরের মাঠে, বরানগর কিংবা যাদবপুরের গলিতে ক্রিকেটে মেতে উঠেছিলেন অনেকেই।