• হনিমুনে গিয়ে নৃশংস ভাবে স্বামীকে খুন! মেঘালয়ের কেসে অভিযুক্ত সোনমের জামিনের পিছনে রয়েছে চাঞ্চল্যকর কারণ
    এই সময় | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৭৯০ পাতার চার্জশিটে একটা টাইপিংয়ের ভুলই নাকি বদলে দিয়েছে গোটা মামলা। সারা দেশে তোলপাড় ফেলে দেওয়া ‘মেঘালয় হনিমুন মার্ডার’ (Meghalaya Honeymoon Murder) কেসের মূল অভিযুক্ত সোনম রঘুবংশীর জামিন নিয়ে সামনে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

    এমন গুরুতর মার্ডার কেসে অভিযুক্তের জামিন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বামীকে বিয়ের এক মাসের মাথায় নৃশংস ভাবে হত্যায় অভিযুক্ত সোনম রঘুবংশীর জামিনের পথ প্রশস্ত করেছে আদালতের নথিপত্রে একটি গুরুতর ত্রুটি—একটি তথাকথিত ‘ক্লারিক্যাল এরর’ বা নথিগত ভুল।

    তবে, মামলার আইনি প্রক্রিয়ায় একটি বড় ভুল সামনে আসে। আদালতের নথি অনুযায়ী, সোনমের বিরুদ্ধে যে অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, তা ছিল ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১০৩ ধারায় খুনের অভিযোগ। কিন্তু গ্রেপ্তারের সময় তাঁকে যে ‘গ্রাউন্ডস অফ অ্যারেস্ট’ বা গ্রেপ্তারের কারণ জানানো হয়, সেখানে ভুলবশত ৪০৩(১) ধারা উল্লেখ করা হয়—যা খুনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। আসলে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় ৪০৩ (১) ধারার কোনও অস্তিত্ব না-থাকলেও ভারতীয় দণ্ডবিধিতে ৪০৩ বলে একটি ধারা ছিল। তবে সেটি সম্পত্তি নিয়ে গন্ডগোলের কারণে দেওয়া হয়। আদালতে পুলিশের তরফে এটিকে ‘প্রক্রিয়াগত ত্রুটি’র যুক্তি দেওয়া হয়েছে। যদিও সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে আদালত।

    ফলে, গ্রেপ্তারির কারণ সঠিক ভাবে না দেখানোয় আইনের চোখে ওই গ্রেপ্তারি গ্রহণযোগ্য নয়। এই অসামঞ্জস্যই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আইন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার সময় তাঁকে সঠিকভাবে জানানো বাধ্যতামূলক যে, কোন অপরাধে তাঁকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু সোনমের ক্ষেত্রে সেই মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে আদালত মনে করে। শুধু একবার নয়, একাধিক নথিতেই এই ভুল ধারা উল্লেখ ছিল, যা আদালতের দৃষ্টিতে সাধারণ টাইপো নয়, বরং একটি গুরুতর প্রক্রিয়াগত ত্রুটি।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই ধরনের ভুল অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর জেরেই শেষ পর্যন্ত সোনম রঘুবংশী জামিন পান। যদিও এর আগে তিনবার তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছিল। মঙ্গলবার সোনমকে জামিন (Bail) দিল ইস্ট খাসি হিলস জেলার জেলা ও দায়রা আদালত। তবে এই খুনে অপর অভিযুক্ত ও সোনমের প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা জামিন পায়নি। সে এখনও জেলেই রয়েছে।

    গত বছরের (২০২৫ সালে) ২৩ মে মেঘালয়ে হনিমুনে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান রাজা এবং সোনম। তার দশ দিন পরে চেরাপুঞ্জির জলপ্রপাতের ধার থেকে রাজার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে ধীরে ধীরে সামনে আসে হত্যার অভিযোগ। পরে পুলিশ দাবি করে, সোনমই এই খুনের মূল ষড়যন্ত্রকারী এবং তিনি ভাড়াটে খুনিদের সাহায্যে এই অপরাধ ঘটান। এর কয়েক দিন পরে উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর থেকে সোনমকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রেমিক রাজের সঙ্গে পরিকল্পনা করে সে স্বামীকে খুন করে বলে অভিযোগ পুলিশের। তার পর থেকে গত ১০ মাস মেঘালয় জেলেই ছিল সোনম।

  • Link to this news (এই সময়)