নিজের সিদ্ধান্তে ও শর্তে ‘অপারেশন সিঁদুর’ স্থগিত করেছে ভারত। কারও হুঁশিয়ারিতে নয়— ন্যাশনাল সিকিউরিটি সামিট ২.০-এর অনুষ্ঠানে স্পষ্ট দাবি করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। রাজনাথ আরও জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত কৌশলগত সংযম দেখালেও, ভবিষ্যতে কোনও ধরনের উসকানি বা সন্ত্রাসবাদী হামলার জবাবে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে।
পহেলগাম হামলার পরে গত বছর ৭ মে গভীর রাতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায় ভারতীয় সেনাবাহিনী। পাকিস্তানের একাধিক প্রদেশে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ভারতীয় সেনার অপারেশনের পরে পাকিস্তানের তরফে সীমান্ত এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। তারও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হয় ভারতের তরফে। দুই দেশের তরফে সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার পরেও পহেলগাম হামলার ঘটনায় যুক্ত জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলে।
ওই অনুষ্ঠানে রাজনাথ বলেন, ‘পাকিস্তানের পারমাণবিক হুমকিকে ভারত কোনও ভাবেই গুরুত্ব দেয়নি এবং সেটিকে ‘ব্লাফ’ হিসেবেই দেখেছে। ভারতের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি।’
এই অনুষ্ঠানে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতীয় সেনাবাহিনীর শৌর্য ও বীরত্বের প্রশংসা করেন রাজনাথ। তিনি বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর আমাদের বাহিনীর সম্মিলিত কর্মতৎপরতারও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিল। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী—এই তিন বাহিনী একযোগে ও একটি অভিন্ন পরিকল্পনার অধীনে কাজ করে প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ভারতের সামরিক শক্তি এখন আর বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয় না; বরং তা একটি সম্মিলিতশক্তি। আর ঠিক এই কারণেই আমরা এই অভিযানটি আমাদের নিজস্ব শর্তে ও আমাদেরই নির্ধারিত সময়ে শুরু করেছিলাম এবং একই ভাবে আমাদের নিজস্ব শর্তেই তা সমাপ্ত করেছি।’
পাশাপাশি, সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে মদত দেওয়ার বিষয়ে পাকিস্তানের সমালোচনা করেন রাজনাথ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের তিনটি ধরন রয়েছে— অপারেশনাল, ইডিওলজিক্যাল এবং পলিটিক্যাল। প্রতিবেশী দেশে সন্ত্রাসবাদের উপরে থেকে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।