• বাহিনী থেকে ড্রোন—মৃত্যুহীন নির্বাচন, কোন স্ট্র্যাটেজিতে স্পেশাল-২৬?
    এই সময় | ০১ মে ২০২৬
  • রাজনৈতিক কারণে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য। কার্যত প্রায় রক্তপাতহীন নির্বাচন দেখল বাংলা। যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিরল। বুথে বুথে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী, বডি ক্যাম, অতিরিক্ত সিসিটিভি, ড্রোন, কিউআরটি টিম, সাঁজোয়া গাড়ি— কিছুই বাদ যায়নি নির্বাচনে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনা ছাড়া বড় কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটেনি বিধানসভা নির্বাচনে। ভাঙড় থেকে ভাটপাড়া— ‘রংবাজ’-দের দেখা মেলেনি। ঠিক কী কী কারণে এই সাফল্য?

    পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি বুথে এ বার ওয়েব কাস্টিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। দুই দফা মিলিয়ে মোট ৮৫,৩৭৭টি বুথে ওয়েব কাস্টিং করা হয়। স্পর্শকাতর বুথগুলিতে তিনটি ক্যামেরা (ভিতরে দু’টি, বাইরে একটি) এবং সাধারণ বুথগুলিতে একটি করে ক্যামেরা রাখা হয়েছিল। প্রত্যেক জেলা নির্বাচনী অফিস এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিস থেকে এই ওয়েব কাস্টিং মনিটারিং করা হয়। পদস্থ কর্তারাও তা মনিটারিং করেন। যেখানে নিয়ম বহির্ভূত কিছু দেখা গিয়েছে, তৎক্ষনাত প্রিসাইডিং অফিসার, সেক্টর অফিসারকে অ্যাকশন নিতে বলা হয়েছে।

    ওয়েব কাস্টিং হলো, বুথে কী হচ্ছে, সেটা সরাসরি নজরদারি করার ব্যবস্থা কমিশন। ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে সমস্ত ছবির সরাসরি সম্প্রচার। কোনও বুথে বা বুথের বাইরে ঝামেলার ইঙ্গিত মিললেই কন্ট্রোল রুম থেকে বসে সেটা লক্ষ্য রাখেন কমিশনের আধিকারিকরা। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে কুইক রেসপন্স টিম পাঠানো হয়। প্রয়োজন মতো পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো হয় সংশ্লিষ্ট বুথে।

    দীর্ঘ কয়েক বছর বাদে নির্বাচন সংগঠিত হয়েছে মাত্র দু’দফায়। গত কয়েকটি লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচন একাধিক দফায় সংগঠিত হয়েছিল। দফা বাড়লে অশান্তি বাড়ে--অন্তত আগের ভোটগুলি সে কথাই বলছে। ভোট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দফা কম হওয়ায় একসঙ্গে বিস্তীর্ণ অঞ্চল নজরদারিতে রেখে ভোট পরিচালনা করা গিয়েছে। কমিশনের এক আধিকারিক বলেন, ‘প্রায় সব রাজনৈতিক দলই এ বার কমিশনের কাছে কম সংখ্যক দফায় ভোটের আর্জি জানিয়েছিলেন। সেই আর্জি মেনে নেওয়া হয়।’

    ২০০১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত একদশকে যে পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, তার থেকে কয়েকগুণ বেশি এ বারের নির্বাচনে মোতায়েন করা হয়। দু’টি দফাতেই আড়াই হাজারের কাছাকাছি কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর মেতায়েন করেছিল নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি ভোট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। স্পর্শকাতর ও অতিস্পর্শকাতর বুথ ও এলাকা চিহ্নিত করে পাঠানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর টিম। যদিও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অতিসক্রিয়তার’ অভিযোগ তুলেছে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল।

    ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হিংসা, মারামারি, মৃত্যুর একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এ বার বুথে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও রাজনৈতিক হিংসার কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

  • Link to this news (এই সময়)